ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির পানি সঙ্কটের সমাধান না হলে অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসার ঘোষণা দিয়েছেন দিল্লির পানিমন্ত্রী অতিশী মারলেনা সিং। পানি সঙ্কটের সমাধানে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন অতিশী।
ওই চিঠিতেই অতিশী বলেছেন, সঙ্কটের সমাধান না হলে শুক্রবার অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসবেন তিনি।
হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, সাংবাদিকদের অতিশী বলেন, আমরা হরিয়ানা সরকারকে অনুরোধ করে এবং সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করেছি। আমরা কেন্দ্রীয় পানিশক্তি মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছি। মঙ্গলবার দিল্লি থেকে কর্মকর্তাদের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল হরিয়ানার রাজ্য সরকারের কর্তাদের সঙ্গে দেখা করলেও তারা কোনো পানি দিতে অস্বীকার করেছেন। দিল্লির জনগণের দুর্ভোগ সব সীমা অতিক্রম করেছে।
অতিশী বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে চিঠি দিয়ে হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছি। আগামী দুই দিনের মধ্যে দিল্লির পানির ন্যায্য অংশ না দিলে আমি সত্যাগ্রহ শুরু করবো। দিল্লি পানি না পাওয়া পর্যন্ত আমি অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করবো।
দিল্লিতে চলমান নজিরবিহীন তাপপ্রবাহের কারণে পানির চাহিদা বেড়ে গেছে। দেখা দিয়েছে পানি সঙ্কট।
অতিশী বলেন, দিল্লি প্রায় তিন কোটি মানুষের জন্য মাত্র এক হাজার ৫০ মিলিয়ন গ্যালন পানি (এমজিডি) পায়। হরিয়ানার সমসংখ্যক জনগণ যেখানে পায় সাড়ে ছয় হাজার মিলিয়ন গ্যালন পানি। হরিয়ানা যদি ১০০ মিলিয়ন গ্যালন পানিও দেয় তা দিল্লির চাহিদার মাত্র দেড় শতাংশ।
দিল্লির অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুসারে, শহরের আনুমানিক পানির চাহিদা এক হাজার ২৯০ মিলিয়ন গ্যালন।
গত প্রায় ১৫ দিন ধরে দিল্লিতে চরম পানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। মোট চাহিদার ৮৬ ভাগের বেশি পানির জন্য দিল্লি তার প্রতিবেশি রাজ্যগুলোর ওপর নির্ভরশীল।
হরিয়ানা রাজ্য সরকার বলেছে, চুক্তি অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। দিল্লির পানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা উচিত।
অতিশী সাংবাকিদের বলেন, গত ১৮ জুন হরিয়ানা ৬১৩ এমজিডির পরিবর্তে ৫১৩ এমজিডি পানি সরবরাহ করেছে। আর এতে ঘাটতি পেড়েছে ২৮ হাজার মানুষ। কারণ প্রতি ২৮ হাজার মানুষকে ১০০ এমজিডি পানি সরবরাহ করা হয়।
আম আদমি পার্টির এই মন্ত্রী অভিযোগ করেন, আমাদের বিধায়করা কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাটিলের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি দেখা করেননি। আমরা সমস্ত সম্ভাব্য প্রশাসনিক এবং আইনি পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করছি।
মঙ্গলবার দিল্লিতে পানি উৎপাদন হয়েছে ছিল ৯১৬ এমজিডি, যেকানে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো এক হাজার এমজিডি। যার ফলে ৮৪ এমজিডির ঘাটতি হয়েছে।
দিল্লি জল বোর্ড (ডিজেবি) জানিয়েছে, ওয়াজিরাবাদ এবং হায়দারপুরসহ তাদের নয়টি শোধনাগারের মধ্যে চারটিতে উৎপাদন কম হচ্ছে।
এদিকে পানি সঙ্কটের কারণে দিল্লির বেশিরভাগ এলাকায় দেখা গেছে, ট্যাঙ্কার পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই মানুষ বালতি, ড্রাম নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। দিল্লির ওখলা, গীতা কলোনি, কুসুম বিহার এলাকাতে বুধবার এই অবস্থা দেখা দিয়েছে।
হাইফা বন্দরে হিজবুল্লাহর নজরদারি ফুটেজ প্রকাশ