জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স’-এর বহর সম্প্রসারণে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘বোয়িং’ ও ইউরোপীয় ‘এয়ারবাস’ থেকে উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনার মধ্যেই নতুন বার্তা দিলো সরকার। ফ্রান্স থেকে ১০টি এয়ারবাস কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে, যার চুক্তি সই হবে আগামী অক্টোবর মাসে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাড়ে ছয় বিলিয়নেরও বেশি ডলারে ২৫টি বোয়িং কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বিমান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
উড়োজাহাজ ক্রয়ের বিবরণ দিয়ে বিমানমন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশের বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ৩০ এপ্রিল ১৪টি বোয়িং কেনার চুক্তি হয়েছিলো। এর পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অতিরিক্ত আরও ১১টি বোয়িং কেনার চুক্তি হয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট ২৫টি বোয়িং কিনতে চুক্তি দাঁড়িয়েছে, যাতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৬.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এসব বোয়িংয়ের প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালে বাংলাদেশে পৌঁছাবে।
এর পাশাপাশি ফ্রান্সের উড়োজাহাজ কোম্পানি এয়ারবাস থেকেও ১০টি উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে চারটি সুপ্রশস্ত (ওয়াইড বডি) ‘এ৩৫০-৯০০’ এবং ছয়টি ন্যারো বডির ‘এ৩২১ নিও’ মডেলের উড়োজাহাজ। আগামী মাসেই ফ্রান্সের সঙ্গে এই ক্রয়চুক্তি সম্পন্ন হবে।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা সফরে এসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন, বাংলাদেশ এয়ারবাস থেকে ১০টি বড়ো উড়োজাহাজ ‘কেনার প্রতিশ্রুতি’ দিয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং এয়ারবাস কেনা প্রসঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। গত ২২ সেপ্টেম্বর ডিক্যাব টকে ফরাসি রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে বলেছিলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্রান্সের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক, ৪.৫ বিলিয়ন ইউরোর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সম্ভাবনা নির্ভর করবে এয়ারবাসের প্রস্তাবের ওপর।
একই সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে সব পক্ষকে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ দেওয়াকে বর্তমান সরকারের জন্য বড়ো পরীক্ষা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফ্রান্স কোনো ধরনের ব্ল্যাকমেইল বা চাপ প্রয়োগের কূটনীতিতে বিশ্বাস করে না।

রাষ্ট্রদূতের এমন মন্তব্যের পর ভূ-রাজনৈতিক চাপ কিংবা তোষামোদ সম্পর্কিত গুঞ্জন নাকচ করে মন্ত্রী বলেন, কাউকে খুশি করা বা কোনো দেশের চাপে পড়ে বোয়িং বা এয়ারবাস কেনা হচ্ছে না। বাংলাদেশ নিজের প্রয়োজনেই এবং বহর সম্প্রসারণের বাণিজ্যিক বাস্তবতার নিরিখেই এসব উড়োজাহাজ কিনছে।
বর্তমানে বিমানের বহরে মোট ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। বিদ্যমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও লোকসানের মধ্যে এতো উড়োজাহাজ কেনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ ও যাত্রী চাহিদা মেটাতেই এই বিনিয়োগ জরুরি।

এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগামী ১৬ ডিসেম্বরে থার্ড টার্মিনাল আংশিক উদ্বোধন করা হবে। তবে এটি পুরোপুরি কার্যক্ষম হতে আরও অন্তত ছয় মাস সময় লাগবে।
