মিসরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি তৃতীয় মেয়াদে শাসনক্ষমতায় যাচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
রোববার থেকে তিনদিন ধরে স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। এরপর ১৮ ডিসেম্বর নির্বাচনের ফল ঘোষণা করার কথা। খবর রয়টার্স’র।
তবে বিশ্লেষকদের বক্তব্য, মিসরে দশক ধরে ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর ধরপাকড় চালানোর পর আয়োজিত এ নির্বাচন সাজানো। তবে সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এ নির্বাচন রাজনৈতিক বহুত্ববাদের দিকে যাওয়ার একটি পদক্ষেপ।
বর্তমানে মিসর চরম অর্থনৈতিক সংকটে আছে। দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি দেখা দিয়েছে, দেশটি রেকর্ড মূল্যস্ফীতির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। সিসি আবারও ছয় বছরের মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরলে তাকে এসব সমস্যার সমাধান অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তার মধ্যে আবার সীমান্তবর্তী গাজা উপত্যকায় ইসরাইল ও হামাসের যুদ্ধ চলছে। এ যুদ্ধের প্রভাব যেন মিসরে ছড়িয়ে না পড়ে, তাও নিশ্চিত করতে হবে সিসিকে।
নির্বাচনে সিসির বিরুদ্ধে যে তিন প্রার্থী লড়াই করছেন, তারা খুব পরিচিত কেউ নন। সিসির বিরুদ্ধে লড়ার জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় যে প্রার্থী ছিলেন, তিনিও অক্টোবরে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
তিনি অভিযোগ করেন, দুর্বৃত্ত ও কর্মকর্তারা তার সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। তবে মিসরের জাতীয় নির্বাচন কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি অস্বীকার করেছে।
মিসরের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে মিসরীয় কর্তৃপক্ষ। সেগুলো ব্যবহার করে জনগণকে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে প্রশাসন। তবে মিসরের জনগণের কেউ কেউ বলছেন, কখন নির্বাচন হবে, তা ভোটের কয়েকদিন আগেও তাদের জানা ছিল না। আবার কেউ কেউ বলছেন, ভোটে তেমন কোনো পরিবর্তন আসবে না।
মিসরে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন সিসি। পরের বছর ৯৭ শতাংশ ভোট নিয়ে সিসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এরপর থেকে সিসির নেতৃত্বাধীন সরকার লিবারেল ও বামপন্থী অ্যাকটিভিস্টদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় চালাতে থাকে। কারাবন্দী করা হয় কয়েক হাজার মানুষকে। ২০১৮ সালেও সিসি ৯৭ শতাংশ ভোট নিয়ে পুনর্নির্বাচিত হন।
গাজায় ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে ইসরাইল: মিসর