ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সোজা ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরান কোনোভাবেই মার্কিন ও ইসরাইলি ‘গুন্ডামি’ বা জবরদস্তির কাছে মাথা নত করবে না। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে আধুনিক যুগের 'মধ্যযুগীয় বর্বর' হিসেবে অভিহিত করে তিনি বিশ্ববাসীকে এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
যুদ্ধের দামামায় যখন মধ্যপ্রাচ্য প্রকম্পিত, তখন তেহরান থেকে গর্জে উঠলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ইরান এই বর্বরোচিত যুদ্ধ শুরু করেনি, কিন্তু আত্মরক্ষা কীভাবে করতে হয় তা তেহরানের খুব ভালো করেই জানা আছে।
পেজেশকিয়ান ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাথে তাঁর সাম্প্রতিক আলাপের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই নিষ্ঠুর যুদ্ধের সূচনাকারী ইরান নয়। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান যাতে তারা মার্কিন-ইসরাইলি এই নগ্ন আগ্রাসনের নিন্দা জানায় এবং অপরাধীদের আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে বাধ্য করে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আঞ্চলিক দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের বিরুদ্ধে কড়া সতর্কতা জারি করেছেন। তিনি বলেন, প্রতিবেশীদের সাথে তেহরানের সম্পর্ক নষ্ট করার উদ্দেশ্যে এই ঘাঁটিগুলো থেকে ইরানের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি সাফ জানান, জায়নবাদী ও আমেরিকানদের এই আগ্রাসনকে উপেক্ষা করে মধ্যপ্রাচ্যে কোনোভাবেই শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
পেজেশকিয়ান এই যুদ্ধকে সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে শুরু হওয়া একটি ‘সম্প্রসারণবাদী ষড়যন্ত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি একে একবিংশ শতাব্দীতে মধ্যযুগীয় কাজ বলে ধিক্কার জানান। তাঁর মতে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের মাটিতে আর কোনো হামলা হবে না, এমন নিশ্চয়তা পাওয়া না যাচ্ছে, ততক্ষণ শান্তির কথা বলা অর্থহীন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল উস্কানি ছাড়াই ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি ও শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের হত্যার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা করে। এরপর থেকেই ইরান বৈধ আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য প্রমাণ করে, তেহরান এখন কোনো প্রকার আপসের মুডে নেই। একদিকে পশ্চিমা শক্তিগুলোর কাউকে রেহাই না দেওয়ার হুমকি, অন্যদিকে ইরানের বিন্দু পরিমাণ ছাড় না দেওয়ার' অনড় অবস্থান- সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন চরম অনিশ্চয়তার মেঘ।
তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে ধুয়ে দিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হরমুজ সংকট: ন্যাটো মিত্রদের ‘অকৃতজ্ঞ’ বললেন ট্রাম্প