শান্তি আলোচনার টেবিল যখন সাজানো হচ্ছে, ঠিক তখনই উত্তাল সমুদ্রের জলরাশি ছিঁড়ে তেহরানকে বড়সড় এক ধাক্কা দিল ওয়াশিংটন। সোমবার রাতে দক্ষিণ এশিয়ার জলসীমায় ‘এমটি টিফানি’ নামের একটি নিষিদ্ধ জাহাজ ঘিরে ফেলে মার্কিন সামরিক বাহিনী। পেন্টাগন জানিয়েছে, কোনো ধরনের সংঘর্ষ ছাড়াই তারা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। অভিযোগ, জাহাজটি ইরানকে যুদ্ধ সরঞ্জাম সরবরাহ করছিল।
পেন্টাগন শুদু জাহাজ জব্দ করেই ক্ষান্ত হয়নি, সেই অভিযানের রুদ্ধশ্বাস কিছু ছবিও প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিশাল তেলের ট্যাঙ্কারের ওপর চক্কর কাটছে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার এবং কমান্ডোরা দক্ষ হাতে জাহাজের ডেকে অবতরণ করছেন।
গত ১৯ এপ্রিল ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করার পর এটি যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় শিকার। ওয়াশিংটনের সোজা কথা, আন্তর্জাতিক জলসীমা নিষিদ্ধ কোনো জাহাজের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হতে পারে না। যেখানেই ইরানকে মদত দেওয়ার চেষ্টা হবে, সেখানেই মার্কিন থাবা পড়বে।
এদিকে, পর পর দুটি জাহাজ জব্দের এই ঘটনাকে ‘যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে ইরানি ইসলামিক রিপাবলিক। তেহরানের মতে, আলোচনার নাম করে যুক্তরাষ্ট্র আসলে তাদের গলা টিপে ধরতে চাইছে। একদিকে ইসলামাবাদে শান্তির কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে মাঝ সমুদ্রে ইরানের রসদবাহী জাহাজ আটকে দেওয়া হচ্ছে, এই দ্বিমুখী নীতি পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে।
পেন্টাগন তাদের বিবৃতিতে বুক ফুলিয়ে ঘোষণা করেছে, অবৈধ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে এবং ইরানের হাত শক্তিশালী করতে পারে, এমন যে কোনো নৌযানকে আটকাতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমুদ্রপথে ইরানের চালচলনের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়াই এখন মার্কিন বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য।
ট্রাম্পের প্রশাসন যেন ইরানকে বুঝিয়ে দিচ্ছে, হয় শান্তির চুক্তিতে সই করো, নাহলে সমুদ্রের প্রতিটি ঢেউয়ে তোমাদের জন্য বিপদ অপেক্ষা করছে। একদিকে জাহাজ জব্দ আর অন্যদিকে বুধবারের সময়সীমা; এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে ইরান এখন কোন পথে হাঁটে, সেটাই দেখার বিষয়। তবে এই মুহূর্তে ‘টিফানি’র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়াশিংটন যে তেহরানের স্নায়ুর পরীক্ষা নিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স-দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়ালেন ট্রাম্প
আজই ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারে ইরানি প্রতিনিধি দল