মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ও বিভাজনের মূল কারণ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। রোববার ওমানের রাজধানী মাস্কাটে সুলতান হাইথাম বিন তারিক আল সাঈদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে আরাগচি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের মুখে ওমানের দায়িত্বশীল এবং বিচক্ষণ অবস্থানের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে কূটনৈতিক প্রক্রিয়াগুলো সচল রাখতে ওমানের গঠনমূলক ভূমিকার জন্য তিনি সুলতানকে ধন্যবাদ জানান। ওমানসহ পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ তীরের দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে তেহরান সবসময়ই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে যে, আঞ্চলিক দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কেবল নিরাপত্তাহীনতা এবং অনৈক্যই ডেকে আনে। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে হলে বাইরের হস্তক্ষেপমুক্ত একটি নিজস্ব ও সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবমুক্ত হয়ে একটি দায়িত্বশীল এবং গঠনমূলক নিরাপত্তা বলয় তৈরিতে এগিয়ে আসবে।
ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে আরাগচি বর্তমানে ওমান সফর করছেন। তাঁর এই তিন দেশ সফরের অংশ হিসেবে ওমানের পর তিনি রাশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসন এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সংহতি প্রকাশই তাঁর এই ঝটিকা সফরের প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার প্রশ্নে মার্কিন প্রভাব সম্পূর্ণ নির্মূল করে আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজস্ব নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিচ্ছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ
মার্কিন চাপ ও হুমকির মুখে কোন সংলাপ নয়: পেজেশকিয়ান