যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শান্তি আলোচনায় বসার লক্ষ্যে ইরান তিন ধাপের একটি বিশেষ সীমারেখা প্রস্তাব করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানে আয়োজিত দ্বিতীয় দফার আলোচনা থেকে উভয় পক্ষ সরে আসার পর তেহরান এই প্রস্তাব দিল। ইরানের এই শর্তাবলি মূলত যুদ্ধের অবসান, হরমুজ প্রণালী এবং পারমাণবিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে।
লেবাননভিক্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘আল মায়াদিন’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে, আলোচনা সফলভাবে পুনরায় শুরু করতে হলে নিচের তিনটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, তিনটি ধাপই হলো আলোচনি শুরু রেড লাইন বা চূড়ান্ত সীমারেখা

প্রথম ধাপ: যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান ঘটাতে হবে এবং ইরান ও লেবাননের বিরুদ্ধে পুনরায় যুদ্ধ শুরু না করার নিশ্চিয়তা দিতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপ: প্রথম ধাপের দাবিগুলো মেনে নেয়া হলে, দ্বিতীয় ধাপে উভয় পক্ষ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ 'হরমুজ প্রণালী'র ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসন নিয়ে আলোচনা করবে।
তৃতীয় ধাপ: উপরের দুটি ধাপ শেষ হওয়ার পরই শুধু ইরান পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনায় বসবে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট, কারণ দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখা এবং তাদের মজুত দেশের বাইরে সরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

এই প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-কে বলেছেন, এগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্র সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে কোনো দরকষাকষি করবে না। প্রেসিডেন্ট যেমনটা বলেছেন, নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এবং আমরা শুধু এমন চুক্তিতেই পৌঁছাবো, যা আমেরিকান জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে; ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।
পাকিস্তানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফার আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই প্রস্তাবটি সামনে এলো। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দুইবার পাকিস্তান সফর করলেও ওয়াশিংটনের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেছেন, তাঁর প্রতিনিধিদের জন্য আর কোনো ১৮ ঘণ্টার ফ্লাইট নয়; আলোচনা প্রয়োজনে ফোনেই করা যেতে পারে।
আরাগচি এর আগে ওমান সফর করেছিলেন, যা কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর অপর প্রান্তে অবস্থিত। এরপর গত রোববার তিনি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য পুনরায় ইসলামাবাদ সফর করেন। বর্তমানে তিনি রাশিয়া সফর করছেন, সেখানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনার সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে।

অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প সোমবার তাঁর শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক টিমের সাথে একটি 'সিচুয়েশন রুম' মিটিং করার পরিকল্পনা করছেন।
এর আগে ১১-১২ এপ্রিল পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনা স্থবিরতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল। সে সময় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছিলেন, তাঁর পক্ষ থেকে সর্বোত্তম ও চূড়ান্ত প্রস্তাব দেয়া হয়েছে এবং এখন দেখার বিষয় ইরানিরা তা গ্রহণ করে কি না। অন্যদিকে, ইরানের আলোচনার প্রতিনিধি দলের প্রধান ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছিলেন, তিনি গঠনমূলক প্রস্তাব করলেও মার্কিন প্রতিনিধি দল ইরানের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি চললেও গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ দুই মাস পূর্ণ হতে চললেও সমাধানের কোনো পথ এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।
