হরমুজ প্রণালীতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলার প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আলোচনার টেবিলে ইরানকে নতিস্বীকার করতে বাধ্য করা এবং আরও ছাড় আদায়ের লক্ষ্যে এই ‘স্বল্পমেয়াদী’ সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
একটি ইসরাইলি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, এই সম্ভাব্য অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হবে একটি সীমিত কিন্তু জোরালো সামরিক চাপ সৃষ্টি করা। এর মাধ্যমে ইরানকে আলোচনার টেবিলে অধিকতর ছাড় দিতে বাধ্য করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এই হামলায় প্রধানত ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এবং শীর্ষস্থানীয় ইরানি কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। উল্লেখ্য, এই হামলার ব্লু-প্রিন্ট বা নীল নকশা গত মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির আগেই অনেকটা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছিল। যুদ্ধবিরতির কারণে সেই পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়েছিলো।

হরমুজ প্রণালীতে সাম্প্রতিক হামলা এবং পাল্টা হামলার ঘটনায় গত মাসে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ইসরাইলি ওই সূত্রটি দাবি করেছে, তেহরান যদি আলোচনার শর্তাবলি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে এই সংক্ষিপ্ত অভিযান শুরুতে ওয়াশিংটন ও তেলআবিব দ্বিধা করবে না।
প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, পুনরায় যুদ্ধ শুরু হবে কি না, তা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর। যদিও দুই দেশ সমন্বিতভাবে প্রস্ততি গ্রহণ করছে, তবে অভিযানের চূড়ান্ত সবুজ সংকেত আসবে হোয়াইট হাউস থেকেই।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে এক নতুন এবং ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার চেষ্টা এবং অন্যদিকে ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও হামলার প্রস্তুতির এই দ্বিমুখী নীতি ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরাইল
