আমিরাতে গোপন সফর নিয়ে কি মিথ্যা বলছেন নেতানিয়াহু?

আপডেট : ১৪ মে ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম

চলতি বছরের শুরুতে ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক গোপন সফর করেছিলেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার তিনি নিজেই এই দাবি করেছেন। তাঁর মতে, আবুধাবির শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সাথে সেই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক 'ঐতিহাসিক মাইলফলক' অর্জিত হয়েছে। তবে, নেতানিয়াহুর এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে একে 'ভিত্তিহীন' বলে অভিহিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

জেরুজালেমের পুরাতন শহরের ওয়েস্টার্ন ওয়ালে স্মৃতি দিবসের এক অনুষ্ঠানে মোসাদ প্রধান ডেভিড বারনিয়া (বামে) এবং শিন বেত প্রধান ডেভিড জিনি    ছবি: সংগৃহীত
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, গত ২৬ মার্চ ওমান সীমান্তবর্তী মরুদ্যান শহর আল-আইনে দুই নেতার মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নেতানিয়াহুর তৎকালীন মুখপাত্র জিভ আগন এই সফরের সত্যতা নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে সেখানে 'রাজকীয় সম্মানে' ভূষিত করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ নিজেই গাড়ি চালিয়ে নেতানিয়াহুকে বিমান থেকে প্রাসাদে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে, আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, ইসরাইলের সাথে তাদের সম্পর্ক শুধু 'আব্রাহাম অ্যাকর্ডস'-এর আওতায় প্রকাশ্যে পরিচালিত হয় এবং কোনো গোপন সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না।

নেতানিয়াহুর ভারপ্রাপ্ত চিফ অফ স্টাফ ও মুখপাত্র জিভ আগমন জেরুজালেমের নেসেটে তার অফিসের বাইরে হাঁটছেন   ছবি: সংগৃহীত
নেতানিয়াহুর এই সফরের খবরের পাশাপাশি আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, যুদ্ধের সময় ইসরাইলের দুই প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা- মোসাদ এবং শিন বেতের প্রধানরা একাধিকবার আমিরাত সফর করেছেন। গত বুধবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, মোসাদ পরিচালক ডেভিড বার্নিয়া সামরিক সমন্বয়ের লক্ষ্যে অন্তত দুবার আমিরাতে গিয়েছেন। এছাড়া ইরান থেকে ধেয়ে আসা ড্রোন ও মিসাইল শনাক্তকরণ, তথ্য বিনিময় এবং লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে দুই দেশ নিবিড়ভাবে কাজ করেছে। উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, আমিরাতকে রক্ষায় ইসরায়েল সেখানে একটি 'আয়রন ডোম' ব্যাটারি এবং সেটি পরিচালনার জন্য সেনাও পাঠিয়েছে।

ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাম দিক থেকে বসে আছেন বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিদ বিন আহমেদ আল খলিফা, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান   ছবি: সংগৃহীত
নেতানিয়াহুর এই সফরের খবর জানাজানি হওয়ার পর তেহরান থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরানের পক্ষ থেকে আব্বাস আরাগচি এক বার্তায় একে ইসরাইলের সাথে 'ক্ষমার অযোগ্য যোগসাজশ' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরাইলের সাথে হাত মিলিয়ে যারা বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়, তাদের জবাবদিহি করতে হবে। অন্যদিকে, ২০২০ সালের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের পর এটিই ছিল নেতানিয়াহুর প্রথম আমিরাত সফর (যদি সত্য হয়), কারণ এর আগে ২০২২ ও ২০২৩ সালে নির্ধারিত সফরগুলো বিভিন্ন রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বাতিল হয়ে গিয়েছিল।

১৪ মার্চ, ২০২৬: ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহতে একটি তেল স্থাপনা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে  ছবি: সংগৃহীত
আমিরাতি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের সময় আমিরাতকে লক্ষ্য করে তেহরান প্রায় ৫৫০টি ব্যালেস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল এবং ২,২০০টিরও বেশি ড্রোন ছুড়েছে। এমনকি ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও বেশ কয়েকবার দেশটিতে হামলা চালানো হয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণেই ইসরায়েলের সাথে আমিরাতের নিরাপত্তা সহযোগিতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আবুধাবি এই গোপন সফরের কথা অস্বীকার করলেও, ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সামরিক ও গোয়েন্দা সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা এখন আর গোপন কোনো বিষয় নয়। নেতানিয়াহুর এই ঘোষণা যেমন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব বৃদ্ধির চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, তেমনি আমিরাতের অস্বীকার মধ্যপ্রাচ্যের জটিল কূটনৈতিক ভারসাম্যেরই প্রতিফলন। তবে এই 'গোপন' সম্পর্কের রেশ আগামীর আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে কত বড় প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

এআরএস
ইরানের ওপর মার্কিন বিমান হামলা জোরদার করার পাশাপাশি যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানকে নতি স্বীকার করাতে ওয়াশিংটনের এই সামরিক...
মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিনিময়ে মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত রবিবার তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে...
বাহরাইন, কাতার ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও কৌশলগত স্থাপনায় আবারও নজিরবিহীন ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞ থামেনি। সবশেষ দখলদারদের ড্রোন হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় শিশুসহ অন্তত সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ইরানের ওপর মার্কিন বিমান হামলা জোরদার করার পাশাপাশি যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানকে নতি স্বীকার করাতে ওয়াশিংটনের এই সামরিক...
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে এক মাসের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি গত সপ্তাহে ভেস্তে যাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। শনিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে, জর্ডানে...
আমেরিকার সাথে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে কেন্দ্র করে তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়েছে ইরান। দেশটির কট্টরপন্থীরা বর্তমান দৃশ্যমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এক নীরব অভ্যুত্থান...
ঢাকায় কর্মরত কুমিল্লা জেলার সাংবাদিকদের সংগঠন ‘কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা’র (সিজেএফডি) নির্বাহী কমিটির নির্বাচন-২০২৬ সম্পন্ন হয়েছে। এতে সভাপতি পদে দৈনিক ইনকিলাবের বিশেষ প্রতিনিধি সাঈদ আহমেদ খান...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর