মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্য এখন খোদ ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে চরম বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। আমেরিকার অন্যতম পুরোনো এবং বিশ্বস্ত আরব মিত্র ওমানকে কার্যত ‘উড়িয়ে দেয়ার’ হুমকি দিয়েছেন তিনি।
কিন্তু ওমানের মতো একটি শান্তিকামী ও নিরপেক্ষ দেশের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থানকে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা শুধু 'আজব' বা 'অযৌক্তিক' বলেই দেখছেন না, বরং একে চরম অবিবেচনাপ্রসূত বলে মনে করছেন। তাহলে পুরনো এবং পরীক্ষিত আরব মিত্রের বিরুদ্ধে এমন আচরণের কারণ কি?
ঐতিহাসিকভাবে ওমান আরব বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অবিচ্ছিন্নভাবে স্বাধীন থাকা একটি রাষ্ট্র। শুধু তা-ই নয়, ১৮৩৩ সালে ওমানই ছিল প্রথম পারস্য উপসাগরীয় দেশ, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। এমনকি কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ুযুদ্ধের চরম উত্তেজনার সময়ে এবং ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর, ১৯৮০ সালে ওমানই প্রথম উপসাগরীয় দেশ হিসেবে আমেরিকার সাথে সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে মার্কিন বাহিনীকে কৌশলগত সুবিধা দিয়েছিল।

বিশ্ব রাজনীতিতে ওমানকে বলা হয় ‘মধ্যপ্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড’। নিজের ভৌগোলিক অবস্থান ও ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে ওমান সবসময়ই একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রেখে চলেছে। আরব সাগরের তীরে অবস্থান এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ ‘হরমুজ প্রণালী’র আংশিক নিয়ন্ত্রণ ওমানকে ১৯ শতকে এক আঞ্চলিক পরাশক্তিতে পরিণত করেছিল, যার ছিল ওই অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী নৌবাহিনী। তবে এই কৌশলগত অবস্থানের কারণেই ওমানকে অতীতে পারস্য বা সৌদিদের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর বারবার আক্রমণ ও অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
ইরানের সাথে ওমানের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে সবসময়ই সৌহার্দ্যপূর্ণ অথচ অত্যন্ত সতর্ক। প্রতিবেশি অন্যান্য দেশের মতো ওমান কখনোই ইরানি ব্যবসা বা অভিবাসনের মূল কেন্দ্র হয়ে ওঠেনি। বরং তেহরানের সাথে তারা সবসময় একটি নীরব ও সূক্ষ্ম কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। আর এই নিরপেক্ষতার কারণেই গত ১৫ বছর ধরে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে যতবারই বন্দি বিনিময় বা গোপন আলোচনা হয়েছে, ওমান সেখানে সবচেয়ে বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে।

তবে চলতি বছরে ওমানের এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখার নীতি কিছুটা জটিল মোড় নেয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার ঠিক একদিন আগে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ বদর আলবুসাইদি মার্কিন টেলিভিশনে হাজির হয়ে জোর দিয়ে বলেছিলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং একটি শান্তি চুক্তি খুব কাছাকাছি রয়েছে।
কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ওমান এই সংঘাতের অন্যতম তীব্র সমালোচক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলবুসাইদি তো সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ওয়াশিংটন এখন তার নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। চলমান এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও ওমান অনবরত ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে, যাতে কোনোভাবে শান্তি ফিরিয়ে আনা যায়। এমনকি এই যুদ্ধের আঁচ ওমানের নিজেদের ভূখণ্ডেও এসে লেগেছে, যেখানে বেশ কিছু হামলা ওমানের সীমানার মধ্যে আঘাত হেনেছে। এমন একটি সংকটময় মুহূর্তে, যেখানে ওমান আমেরিকার হয়ে নেপথ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ করছে, সেখানে ট্রাম্পের প্রকাশ্য ওমান
তথ্যসূত্র: সিএনএন
