ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণী সংস্থা- সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল বা জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্বে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। ইসলামিক বিপ্লবী বাহিনীর (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান ও বিশিষ্ট কট্টরপন্থী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোহসেন রেজাইকে (৭১) এই সংস্থার দ্বিতীয় শীর্ষ পদে (সেকেন্ড-ইন-কমান্ড) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গত রোববার রাতে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ানের যোগাযোগ উপ-পরিচালক এই নতুন নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। বিদায়ী সচিব মোহাম্মদ বাকের জোলকাদরের তুলনায় রেজাই ইরানি রাজনীতি ও প্রশাসনে অত্যন্ত সোচ্চার এবং পরিচিত এক মুখ।
আকস্মিক পরিবর্তন ও পটভূমি: গত মার্চ মাসের শেষের দিকে আলী লারিজানি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলায় নিহত হওয়ার পর মোহাম্মদ বাকের জোলকাদরকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব পদে বসানো হয়েছিল।
মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় তাঁকে সরিয়ে মোহসেন রেজাইকে আনলেও, সরকারের পক্ষ থেকে পদ পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি। এই রদবদলে ইরানের বর্তমান পররাষ্ট্র নীতিতে কোনো নীতিগত পরিবর্তন আসবে কি না, তাও তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।
তবে নতুন এক ডিক্রি জারি করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মোহসেন রেজাইকে নিরাপত্তা কাউন্সিলে তাঁর নিজস্ব প্রতিনিধি হিসেবেও নিযুক্ত করেছেন। এই পদে তিনি আরেক জ্যেষ্ঠ কট্টরপন্থী নেতা সাইদ জলিলির স্থলাভিষিক্ত হলেন। ডিক্রিতে রেজাইয়ের ১৯৮০-৮৮ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা বিশেষভাৱে তুলে ধরা হয়। অন্যদিকে, পদচ্যুত জোলকাদরকে সর্বোচ্চ নেতার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
৭১ বছর বয়সী মহসেন রেজাই ইরানের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৬ বছর আইআরজিসির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।পরবর্তীতে দুই দশকেরও বেশি সময় তিনি ইরানের 'এক্সপিডিয়েন্সি ডিসার্সমেন্ট কাউন্সিল'-এর সচিব ছিলেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির সরকারে (২০২১-২০২৩) তিনি অর্থ বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করলেও রেজাই মূলত সামরিক ও নিরাপত্তা কৌশলবিদ হিসেবেই পরিচিত।
যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালী সংকট: এই প্রশাসনিক রদবদল এমন এক সময়ে ঘটল যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সাথে পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের কারণে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নতুন নৌ-চ্যানেল চালু করতে ইরান ও ওমান একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে এই জলপথ উন্মুক্ত করার বিষয়টি মার্কিন ক্ষতিপূরণ প্রদান, ইরানের বিরুদ্ধে সব ধরনের সামরিক হুমকি বন্ধ করা, লেবানন, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন ও ইরাকে মিত্রদের ওপর আক্রমণ বন্ধ করা এবং ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক অবরোধ তুলে নেওয়ার মতো বেশ কিছু শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
হরমুজ প্রণালী খোলার শর্তে অটল ইরান
হুথিদের হামলায় সৌদির গ্যাস খাতে ধস, উৎপাদন-রপ্তানি ৯০% কমার দাবি