নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকিকে যুক্তরাষ্ট্রের চরম ‘হতাশা ও ব্যর্থতার প্রতীক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর ছয় মাসের যুদ্ধে বিপর্যস্ত হলেও তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নতুন কোনো কঠোর পদক্ষেপেও তাদের নতিস্বীকার করানো যাবে না।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে ইতিহাসের কঠিনতম নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন। দেশটির অর্থনীতি ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে জর্জরিত, পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত এবং হাজার হাজার মানুষ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।

তা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ 'হরমুজ প্রণালী'তে অননুমোদিত তেল ট্যাংকার চলাচল বন্ধ করে বৈশ্বিক তেলের বাজার অস্থিতিশীল করে রেখেছে ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি টেলিগ্রামে এক ভিডিও বার্তায় বলেন, সামরিক অভিযান থেকে পিছু হেঁটে আবারও সেই পুরনো পরিকল্পনায় ফিরে যাওয়া প্রমাণ করে মার্কিন নেতৃত্ব কতটা হতাশ। চাপ বা সামরিক অবরোধের সব চেষ্টা অতীতে ব্যর্থ হয়েছে, নতুন এই উদ্যোগও ব্যর্থ হবে। তিনি ওয়াশিংটনকে সম্মান প্রদর্শন করে একটি সম্মানজনক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাধানের আহ্বান জানান।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যে দেশই ইরানকে বাঁচানোর চেষ্টা করবে, তাকেই অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে। তবে বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের হিসাব অনুযায়ী ইরানের ৮০ শতাংশ তেলের ক্রেতা দেশ চীন মার্কিন সিদ্ধান্তের বদলে কূটনৈতিক আলোচনার তাগিদ দিয়েছে।

অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তা পুনর্প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সোমবার তেহরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকি ও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরানি নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করবে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ জানান, একটি নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার কাঠামোর বিষয়ে তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছ থেকে প্রচুর বার্তা পাচ্ছেন। মার্কিন প্রভাবমুক্ত একটি স্বাধীন ও নিজস্ব আঞ্চলিক ব্যবস্থা গড়াই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
