ইরানের সাথে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের পূর্বে এবং যুদ্ধকালীন সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে সরিয়ে নেয়া মার্কিন কূটনীতিকদের পুনরায় নিজ নিজ দূতাবাসে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। এরিমধ্যে ফেরার প্রস্তুতি শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা।
মঙ্গলবার মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। অভ্যন্তরীণ একটি গোপন নথির ওপর ভিত্তি করে তারা এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন মিশনগুলোতে জরুরি বিধিনিষেধ শিথিল এবং কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনার এই প্রক্রিয়া চলতি সপ্তাহ থেকেই শুরু হতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তাদের কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত পর্যালোচনা করছে।
এক বিবৃতিতে স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, সাম্প্রতিক নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের নির্দিষ্ট কিছু পোস্টে কর্মী সংখ্যা পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে, যাতে কর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে কাজ চালিয়ে যাওয়া যায়।
যেসব দূতাবাসে কূটনীতিকদের ফিরিয়ে পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা আছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসরাইল, লেবানন, সৌদি আরব, কাতার, জর্ডান, ওমান, ইরাক এবং কুয়েত।
প্রথম ধাপে লেবাননে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে সর্বপ্রথম কূটনীতিকদের পাঠানো হবে, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে সেখানে পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ শুরু হবে না। পরবর্তীতে ইসরাইল, জর্ডান এবং ওমানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলোতে ১০০ শতাংশ কর্মীবাহিনী ফিরিয়ে আনা হবে।
এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার এবং লেবাননের দূতাবাসগুলোতে প্রাথমিকভাবে ৮৫ শতাংশ কর্মী পুনর্বাসিত হবেন। অন্যদিকে ইরাক, কুয়েত এবং বাহরাইনের মিশনগুলোতে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ কর্মী দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সাথে সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরাইল থেকে জরুরি নয় এমন কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ঐচ্ছিক প্রস্থানে সায় দিয়েছিল ওয়াশিংটন। পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর এখন আবারও সেখানে পুরোদমে কূটনৈতিক তৎপরতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
হাইতিতে গ্যাং হামলায় নিহত ৪৭, ক্ষোভে ফুঁসছে জনগণ!
টেকটনিক নড়াচড়ায় বঙ্গোপসাগরে বাড়ছে ভূকম্পনের ঝুঁকি
মার্কিন অর্থনৈতিক যুদ্ধের জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান