ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর মধ্যে লোহিত সাগর অঞ্চলে সংঘাত নতুন করে ছড়িয়ে পড়ায় চরম মানবিক সংকট ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি নতুন অভিবাসন সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বাঁচতে সাধারণ ইয়েমেনি নাগরিকরা বিপজ্জনকভাবে নৌকায় চড়ে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে আফ্রিকার উপকূলের দিকে পালাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর দেয়া তথ্যমতে, সাম্প্রতিক এই সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে এক লাখেরও বেশি ইয়েমেনি গৃহহীন হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই ইয়েমেনের অভ্যন্তরে বাস্তুচ্যুত। গত সপ্তাহে ঝটিকা অভিযানের মাধ্যমে হুথিরা ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সৌদি বিমান বাহিনী হাজ্জাহ ও তাইজ প্রদেশে শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।

জবাবে সীমান্ত পার হয়ে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুথিরা। এমনকি একটি সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি তুলে ধরে সামরিক প্রতীকের পোড়া ধ্বংসাবশেষের ভিডিও প্রকাশ করেছে তারা। এর আগে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনও হামলার শিকার হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ফেব্রুয়ারিতে ইরানে আক্রমণ চালানোর পর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ ইয়েমেন ও সৌদি আরবে ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বর্তমানে ব্যারেল প্রতি ১০০ থেকে ১১০ ডলারে ওঠানামা করছে, যা মে মাসের পর সর্বোচ্চ। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের খুচরা মূল্য ইতিহাসের রেকর্ড ভেঙে প্রতি গ্যালন প্রায় ৬.৪০ ডলারে পৌঁছেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন যে এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী, যদিও জুন মাসে দুই দেশের মধ্যবর্তী একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।

অন্যান্য দেশ ও সৌদি আরবের পক্ষ থেকে সামরিক সহায়তার জন্য অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন এতে সরাসরি যুক্ত হতে অনিহা প্রকাশ করেছে। বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে সহায়তা করার চেষ্টা চালানোর পাশাপাশি ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।
ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ না তোলা পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখবে এবং প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ফি আদায়ের চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, হরমুজের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি গত সপ্তাহে ইরাকভিত্তিক মিলিশিয়াদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালী ও উপকূলীয় অঞ্চল হুথিদের দখলে চলে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের বিকল্প পথগুলোও এখন মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
