ভারতে লোকসভা নির্বাচনের পর এবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ‘গণ-অভিশংসন’ বা প্রতীকী ইমপিচমেন্ট কার্যক্রম শুরু করেছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট। শনিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনের প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রতীকী সংসদীয় অধিবেশনে সিইসির বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
পুরোনো সংসদ ভবনের সেন্ট্রাল হলের আদলে সাজানো এই প্রতীকী সেশনে সভাপতিত্ব করেন লোকসভার সাবেক স্পিকার মীরা কুমার। সাবেক স্পিকার অধিবেশন শুরু করে বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভারতের গণতান্ত্রিক মডেল অনুকরণীয় হলেও আজ তা হুমকির মুখে। অনিয়মতান্ত্রিকভাবে লাখ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রশ্ন তুললে কোনো স্বচ্ছ জবাব পাওয়া যাচ্ছে না।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অধিবেশনে প্রতীকী প্রস্তাব উত্থাপন করে বলেন, ভোটাধিকার হলো ডেমোক্রেসির মূল ভিত্তি। আজ নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের সরাসরি নির্দেশে সিইসি কাজ করছেন।" তিনি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মোট ৬টি মূল অভিযোগ এনেছেন; যার মধ্যে রয়েছে- ১৩ কোটি ২০ লাখ ভোটারের নাম অবৈধভাবে বাতিল করা, সংসদের অনুমোদন ছাড়াই ফর্ম-৬ পরিবর্তন করা এবং নির্বাচন কমিশনকে মোদী-শাহের এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত করা।

অধিবেশনে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যসভা ও লোকসভার সংসদ সদস্যসহ ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া সাধারণ নাগরিকরাও উপস্থিত ছিলেন। অধিবেশনের যাবতীয় কার্যক্রম রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসের অফিশিয়াল হ্যান্ডেলগুলো থেকে এক্সে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশাল গণসমাবেশের ঠিক আগের দিন এই প্রতীকী অভিশংসনের আয়োজন করা হলো।
এদিকে বিরোধী জোটের এই প্রতীকী ইমপিচমেন্টকে স্রেফ ‘একটি তামাশা’ ও সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দলটির মুখপাত্র গুরু প্রকাশ পাসোয়ান বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে খোঁচা দিয়ে বলেন, রাহুল গান্ধী বাস্তবে নির্বাচনে জিততে না পেরে নিজের পছন্দের কাল্পনিক সংসদে বসে অভিশংসনের নাটক করছেন।
এর আগে বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিরোধী নেতাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ভোটার তালিকা বা এসআইআর ইস্যুতে সরকার সংসদে যেকোনো বিশেষ অধিবেশনে বিতর্কের জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, বিজেপির লুকানোর কিছু নেই। কিন্তু বিরোধী নেতারা সংসদে ইতিবাচক আলোচনা না করে স্রেফ হট্টগোল সৃষ্টি করতে পছন্দ করেন।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
