যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য চুক্তির দিনক্ষণ ঠিক হলেও তেহরানের সাধারণ মানুষের মনোভাব বলছে ভিন্ন গল্প। যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ, দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস আর বারবার ভেঙে যাওয়া প্রতিশ্রুতির অভিজ্ঞতা অনেক ইরানিকে করে তুলেছে সতর্ক। কেউ মনে করছেন সমঝোতা প্রয়োজন, আবার কেউ দেখছেন এর পেছনে নতুন কোনো কৌশলগত খেলা।
তেহরানের রাস্তায় যানজট, খোলা দোকানপাট, দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত ইরানিরা। কিন্তু স্বাভাবিক এই শহরের ভেতরে এখনো রয়ে গেছে যুদ্ধের অনিশ্চয়তার ছায়া। শান্তি চুক্তির খবরে, আশার চেয়ে সংশয় বেশি সাধারণ মানুষের মধ্যে। কারণ তাদের অভিজ্ঞতা বলছে, রাজনৈতিক ঘোষণা আর বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান অনেক বড়। চুক্তি নিয়ে বারবার বিশ্বাসভঙ্গের কারণে ইরানিদের ভেতর জন্ম নিয়েছে অবিশ্বাস।
তারা বলেন, বিষয়টি একেবারেই অনুমান করা যায় না। ট্রাম্প রাতে এক সিদ্ধান্ত নেন, সকালে উঠে আরেকটি বাস্তবায়ন করতে চান। আমাদের সন্দেহ আছে, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে কি না। এর আগেও যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েও তা ভঙ্গ করা হয়েছে।
যুদ্ধের প্রতিটি দিন সাধারণ মানুষের জীবনে নতুন অনিশ্চয়তা নিয়ে এসেছে। অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, নিত্যপণ্যের দাম থেকে শুরু করে পারিবারিক নিরাপত্তা সবকিছুতেই পড়েছে তার প্রভাব। তাই অনেকেই মনে করছেন শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কিছু ছাড় দেওয়াও গ্রহণযোগ্য ।
তবে তেহরানের অনেক বাসিন্দা মনে করেন, কূটনৈতিক আলোচনা এখন ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতারই অংশ। তাদের দৃষ্টিতে এই আলোচনা যুদ্ধ থামানোর চেয়ে বরং নতুন কৌশল নির্ধারণের একটি পর্যায় মাত্র।
এমন বাস্তবতায় তেহরানের মানুষের প্রতীক্ষা শুধু একটি সইয়ের জন্য নয়। তারা দেখতে চান, বহু প্রতিশ্রুতি আর ব্যর্থ উদ্যোগের ইতিহাস পেরিয়ে এবার সত্যিই কোনো স্থায়ী সমাধান আসে কি না। কারণ কাগজে-কলমে চুক্তি যুদ্ধ থামাতে পারে, কিন্তু মানুষের মনে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে শুধু তার বাস্তব প্রয়োগই।
