ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও ও সুমাত্রা দ্বীপে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলের বিষাক্ত ধোঁয়া সীমান্ত পেরিয়ে গ্রাস করেছে প্রতিবেশী মালয়েশিয়াকে। ঘন ও চোখঝাঁজানো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে মালয়েশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের সারাওয়াক রাজ্যের সেরিয়ান জেলা। ঘরবাড়ি, সড়ক ও স্থানীয় বাজারঘাট সর্বত্র বিষাক্ত ধোঁয়া ঢেকে যাওয়ায় বায়ুদূষণের মাত্রা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। উদ্ভূত চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে শুক্রবার সেরিয়ান জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে মালয়েশিয়া সরকার।

বোর্নিও ও সুমাত্রার বিস্তীর্ণ বনভূমির আগুন নিয়ন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়া হিমশিম খাওয়ায় সেই ধোঁয়াশা ছড়িয়ে পড়ছে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ব্রুনেইয়ে। শুক্রবার সারাওয়াকের রাজধানী কুচিং থেকে ৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বের সীমান্ত ঘেঁষা সেরিয়ান জেলায় বায়ুমান সূচক বা এয়ার পলিউশন ইনডেক্স ৫০০ ছাড়িয়ে রেকর্ড ৫১২-তে পৌঁছায়। মালয়েশিয়ার সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী এপিআই ৩০০ পার হলেই তা 'বিপজ্জনক' এবং ৫০০ অতিক্রম করলে স্থানীয়ভাবে জরুরি অবস্থা জারির বিধান রয়েছে। চলতি বছর মালয়েশিয়ার প্রথম কোনো এলাকা হিসেবে বায়ুদূষণের কারণে সেরিয়ানে এই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলো।

সীমাহীন এই বায়ুদূষণে গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন সেরিয়ানের প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার বাসিন্দা। ইন্দোনেশিয়ার কালিমান্তান প্রদেশের সীমান্ত থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান হওয়ায় স্থানীয়রা ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রেখে এবং এয়ার কন্ডিশনার চালিয়েও ধোঁয়ার তীব্র গন্ধ থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না। শ্বাসকষ্ট, গলাব্যথা ও চোখে মারাত্মক জ্বালাপোড়াসহ নানাবিধ অসুস্থতায় ভুগছেন অনেকেই। পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলাটির প্রায় ৬৪৭টি স্কুল অন্তত সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন, যা দীর্ঘায়িত হলে শিক্ষা ব্যবস্থা চরম ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।

মারাত্মক এই ধোঁয়াশার প্রভাবে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে ধ্বস নেমেছে। শহরের বাজারগুলোতে ক্রেতাদের স্বাভাবিক আনাগোনা নেই বললেই চলে; এমনকি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র রাঞ্চান জলপ্রপাত এলাকাও জনশূন্য থমথমে রূপ নিয়েছে। স্থানীয় ডুরিয়ান ফল বিক্রেতারা জানান, ছুটির দিনে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অর্ধেক আয় করাও এখন দুষ্কর হয়ে পড়েছে। পরিবার চালানোর তাগিদে বাধ্য হয়ে বিষাক্ত বাতাসের মধ্যেই অনেককে মাস্ক পরে জীবিকার তাগিদে বাইরে নামতে হচ্ছে।
কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের কল্যাণে শুক্রবার রাত ও শনিবার সকালে বৃষ্টি হলে এপিআই সূচক কিছুটা কমে ২১৯-এ নেমে আসে, যা কিছুটা স্বস্তি আনলেও জেলায় জরুরি অবস্থা এখনো বহাল রয়েছে। স্বাভাবিক রুটিন ব্যাহত হওয়ায় অতি দ্রুত ইন্দোনেশিয়ার আগুন নিয়ন্ত্রণ ও বাতাসের মান স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
