কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি ও এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া আশঙ্কাকে সরাসরি ‘ভুয়া’ বা ‘প্রতারণা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রযুক্তি খাতের অনিয়ন্ত্রিত গতি থামাতে এবং গার্ডরেইল বা প্রতিরক্ষামূলক কড়াকড়ি আরোপের যেসব দাবি উঠছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া ধারাবাহিক কিছু পোস্টে তার তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।
ট্রাম্প এআই সুরক্ষার উদ্বেগগুলোকে ‘উগ্র বামপন্থী ডেমোক্র্যাটদের গ্লোবাল ওয়ার্মিং স্ক্যাম’-এর সাথে তুলনা করেছেন। নিজেকে ‘হোক্স বাস্টার’ বা ভুয়া তথ্য উন্মোচনকারী হিসেবে দাবি করে তিনি লেখেন, এআই ও ডেটা সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে একটি অসুস্থ ষড়যন্ত্র চলছে, যার আসল লাভবান হচ্ছে চীন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, যে এআই-তে জিতবে, সেই বিশ্ব জয় করবে! তাঁর মতে, এআই নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো বাড়তি কড়াকড়ির প্রয়োজন নেই; শুধু একজন শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান প্রেসিডেন্টই যথেষ্ট।

এদিকে চিনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের রাজনীতিবিদেরা এআই-তে চীনের দ্রুত অগ্রগতি দেখে আতঙ্কিত। ফুদান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সিন চিয়াংয়ের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এআই গবেষণা ধীরগতির করলে বা নিয়ন্ত্রণ বাড়ালে চীন দ্রুত তাদের টপকে যাবে, এই ভয়েই তাদের নীতির অগ্রাধিকারগুলো এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।
ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের ঠিক আগেই এআই খাতের প্রথম সারির প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ক্লার্ক বিবিসিকে জানান, বিপজ্জনক হয়ে উঠলে পুরো এআই সিস্টেম এক ক্লিকে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য একটি তৃতীয় পক্ষ পরিচালিত ‘কিল সুইচ’ রাখা আইনত বাধ্যতামূলক করা উচিত।

এরই মধ্যে অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এআই-এর বিকাশের গতি কিছুটা কমানো ও নজরদারি বাড়ানের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যান এবং এক্সএআই-এর ইলন মাস্কের মতো পরাশক্তিরা।
এর আগে সাবেক অ্যানথ্রোপিক গবেষক জেকব কক্সনের একটি পোস্ট ভাইরাল হয়, যেখানে তিনি আশঙ্কা জানান, এআই মানবজাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে। এমনকি অ্যানথ্রোপিকের বিজ্ঞানী ইভান হাবিংগার দাবি করেন, আগামী এক দশকের মধ্যে এআই-এর কারণে মানুষ বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকি ১০ শতাংশের বেশি!

এআই-এর অস্তিত্বগত এই ঝুঁকি নিয়ে উদ্ভূত অনিশ্চয়তা সোমবার প্রযুক্তি খাতের শেয়ার বাজারেও ধস নামিয়েছে। অন্যদিকে এই আশঙ্কার জের ধরে মার্কিন রাজনীতির বিপরীত মেরুর দুই প্রভাবশালী মুখ—ট্রাম্পের সাবেক প্রধান কৌশলবিদ স্টিভ ব্যানন এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, ওয়াশিংটনে ‘প্রো-হিউম্যান অ্যাসেম্বলি’-তে একসাথে অংশ নিচ্ছেন। স্যান্ডার্স সোজাসাপ্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মানবজাতি নিশ্চিহ্ন হওয়া ঠেকাতে এখনই এআই-এর লাগামহীন বৃদ্ধি থামাতে হবে।
সব মিলিয়ে মাইক্রোসফটের মতো টেক জায়ান্টরা যখন মানবকেন্দ্রিক এআই তৈরির দিকনির্দেশনা প্রকাশ করছে, তখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান বিশ্বজুড়ে এআই সুরক্ষা বিতর্ককে নতুন এক উত্তপ্ত মোড়ে দাঁড় করিয়ে দিল।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
