জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তীব্র হুংকার ছাড়ার পাশাপাশি এক চরম সিদ্ধান্তের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকার কথা ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, ইরানকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেওয়া অথবা আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর একটি চুক্তিতে পৌঁছানো, এই দুইয়ের মধ্য থেকেই তাঁকে চূড়ান্ত পথ বেছে নিতে হবে।

ট্রাম্প প্রশ্ন তোলেন, ইরানকে কি পুনর্গঠন ও মধ্যপ্রাচ্যের একটি অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ হওয়ার সুযোগ দেয়া হবে, নাকি দ্রুত সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে দেশটিকে চিরতরে ধ্বংস করে দেয়া হবে? তবে এই কঠোর অবস্থানের পরপরই ট্রাম্প আশাবাদ জানান, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তি সম্ভব হতে পারে, কারণ বর্তমানে তারা শুধু নির্বাচনের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছে।

ট্রাম্প যখন গত ছয় মাস ধরে ইরানের ওপর চলা সামরিক হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরছিলেন, তখন জাতিসংঘে উপস্থিত ইরানি প্রতিনিধিদল অধিবেশন ত্যাগ করে প্রতিবাদ জানায়। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, যে কোনো মূল্যে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব গৃহীত হওয়ায় তিনি পরিষদকে ধন্যবাদ জানান এবং ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ বজায় রাখার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। তবে, চুক্তির বিষয়ে আশা প্রকাশ করলেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা বা হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সুনির্দিষ্ট কী ধরনের নিশ্চয়তা চায়, তা ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেননি।

ইরান সংকটের পাশাপাশি ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে একাধিক বৈশ্বিক ইস্যু ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্রে গোলাবারুদের সংকট চলছে, এমন দাবি শক্তভাবে প্রত্যাখ্যান করে তিনি জানান, দেশে রেকর্ড গতিতে নতুন অস্ত্র তৈরি হচ্ছে এবং বর্তমানে ১৮টি বড় সমরাস্ত্র কারখানা নির্মাণাধীন রয়েছে।

এছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত সমাপ্ত করার জন্য তিনি উভয় দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কাজ করছেন বলে জানান। কিউবা ও ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গে কড়া বার্তা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঘরের কাছে কোনো শত্রুভাবাপন্ন দেশের অবস্থান সহ্য করা হবে না। একই সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) একটি ‘অনিয়ন্ত্রিত ও ভুয়া’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর সদস্য দেশগুলোকে অবিলম্বে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান ট্রাম্প।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স-সিএনএন-এনডিটিভি
