ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার ভয়াবহ ও বিধ্বংসী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চরম উত্তেজনার মধ্যেই নজিরবিহীন এক ঝটিকা সফরে কিয়েভে পৌঁছেছেন জার্মানির নতুন চ্যান্সেলর ফ্রেডারিক মার্জ। ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপের অটল সমর্থন জানানোর অংশ হিসেবে রোববারের এই সফরে তিনি ১৩০ কোটি ইউরোর (১.৩ বিলিয়ন ইউরো) এক বিশাল জরুরি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন।
সকাল থেকেই কিয়েভজুড়ে এয়ার রেড সাইরেন বাজতে থাকার পরও এই সফরের মাধ্যমে ইউরোপের নিরাপত্তা ও ইউক্রেনকে রক্ষার এক জোরালো বার্তা দিলেন এই জার্মান শীর্ষ নেতা।

আমেরিকান ও পশ্চিমা অস্ত্র সরবরাহের ওপর ইউক্রেনের নির্ভরতার মাঝেই কিয়েভের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলকে যুক্তকারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পিভনিচনি সেতুতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। আসন্ন কড়া শীতের আগেই শহরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে সাধারণ মানুষকে কিয়েভ ছাড়তে বাধ্য করতেই রাশিয়ার এই নতুন কৌশল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, এক রাতেই রাশিয়া ইউক্রেনজুড়ে ১৩৫টি ড্রোন ছুড়েছে, যার মধ্যে ৫০টিরও বেশি ছিল অতীব দ্রুতগতির জেট-চালিত শাহেদ ড্রোন। এছাড়া সুমিতে ওষুধের গুদামে হামলায় ১ জন নিহত ও তিনিটি অঞ্চলে আরও ৬ জন আহত হয়েছেন। বিগত এক সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর ১,৯০০টিরও বেশি ড্রোন, ১,৭০০টি আকাশ বোমা এবং ২৫টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে পুরো বেসামরিক জীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখার পর জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডারিশ মার্জ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এই নিরর্থক যুদ্ধ ও বর্বর হামলা বন্ধ করার কড়া আহ্বান জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাশিয়াকে এখনই না থামালে তাদের যুদ্ধের মেশিন আজ হোক কাল হোক পুরো ইউরোপেরই বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াবে।

পরে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ঘোষিত ১৩০ কোটি ইউরোর সহায়তার আওতায় অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সমরাস্ত্র এবং শীতের আগে বিদ্যুৎ খাত পুনর্গঠনের জন্য বড় আর্থিক ফান্ড প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
অন্যদিক, ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি শোধনাগারগুলোতে পাল্টা আক্রমণ জোরালো করার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কিয়েভসহ ইউক্রেনের সামরিক ও শিল্প অবকাঠামোতে হামলার মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
ইতোমধ্যে বিদেশি নাগরিক ও কূটনীতিকদের কিয়েভ ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে মস্কো। সব মিলিয়ে যুদ্ধের এই চরম পর্যায়ে কিয়েভের বুকে অবস্থান নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলরের এই সাহসী সফর এবং বিশাল সহায়তার ঘোষণা কিয়েভ-মস্কো সংঘাতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।
