ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের ওপর রুশ বিমান ও ড্রোন হামলা এক নতুন এবং আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে। কিয়েভের দুই অংশকে সংযোগকারী অন্যতম প্রধান সেতুতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে মস্কোর এই ত্বরান্বিত আক্রমণের কারণে রাজধানীজুড়ে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বন্ধ থাকা 'সাউদার্ন ব্রিজ'-এ ড্রোন হামলা চালায় রুশ বাহিনী। এর আগে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক হামলায় বিশাল দনিপ্রো নদীর ওপর অবস্থিত তিনটি সেতুর মধ্যে দুটির যান চলাচল সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হয় কিয়েভ কর্তৃপক্ষ। প্র

তিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় কাজের উদ্দেশ্যে কিয়েভের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাতায়াতকারী লাখ লাখ বাসিন্দাকে দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ইউক্রেনের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ আন্দ্রি শেভচিশিনের মতে, প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ মানুষ দনিপ্রোর 'লেফট ব্যাঙ্ক' বা পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা থেকে 'রাইট ব্যাঙ্ক' বা পশ্চিমাঞ্চলীয় ব্যবসায়িক ও সরকারি কেন্দ্রে যাতায়াত করেন। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো শহরের নিরাপত্তা কাউন্সিলের এক জরুরি বৈঠক ডেকে উদ্ভূত পরিস্থিতিকে অত্যন্ত নাটকীয় ও সংকটজনক বলে বর্ণনা করেছেন।
শুধু সেতুই নয়, শুক্রবার সকালে কিয়েভের একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যাতে একজন নিহত এবং দুজন আহত হন। এছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে একটি গাইডেড বোমা হামলায় ২ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন।

কিয়েভের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত মাসে রুশ বিমান অভিযানের ওপর থেকে যাবতীয় বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, এসব ধারাবাহিক হামলা তারই ফসল।
সামনে তীব্র শীত আসায় কিয়েভের বাসিন্দারা নতুন করে বিদ্যুৎ ও উত্তাপ (হিটিং) সংকটের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। রাশিয়ার ড্রোন হামলায় এর আগেও শীতকালে হাজার হাজার মানুষ হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় বিদ্যুৎহীন দিন কাটিয়েছে। এর বিপরীতে ইউক্রেনও রাশিয়ার ভেতরে পাল্টা হামলা জোরদার করেছে।
ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে ভলগোগ্রাদের লুকঅয়েল শোধনাগার এবং সামারা অঞ্চলের একটি তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট পুতিন স্বীকার করেছেন, ইউক্রেনের এই তেল শোধনাগারগুলোতে হামলার কারণে রাশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে এবং রুশ পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
