ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হওয়ার আগেই প্রকাশ হলো অরুণাচল প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল। তাতে নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপির জয়জয়কার।
৬০ আসনের অরুণাচল বিধানসভায় ৪৬টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। এতে অরুণাচলে ক্ষমতায় আসছে বিজেপি।
সিকিমে ক্ষমতায় এসেছে সিকিম ক্রান্তিকারী মোর্চা (এসকেএম)। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় তারা। ৩২ আসনের মধ্যে পেয়েছে ৩১টি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, অরুণাচল প্রদেশে জেতার জন্য আসন সংখ্যা দরকার ছিলো ৩১টি। সেক্ষেত্রে বিজেপি সেই ম্যাজিক সংখ্যা পেরিয়ে গেছে। তাদের আর নতুন করে অন্য কারো সঙ্গে জোট করতে হবে না।
ভোটের ফল প্রকাশের পর নিজের এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে লেখেন, ধন্যবাদ অরুণাচল প্রদেশ। এই রাজ্য উন্নয়নের পক্ষে মানুষ রায় দিয়েছে। আবার বিজেপির পক্ষে রায় দেয়ার জন্য আমার কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি তাদের প্রতি। আমাদের দল আরও নতুন উৎসাহ নিয়ে রাজ্যের উন্নতিতে কাজ করে যাবে।
৬০ আসনের অরুণাচল বিধানসভায় ৪৬টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। এরমধ্যে ১০টিতে জয় এসেছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
বাকি আসনগুলোর পাঁচটিতে জিতেছেন পড়শি রাজ্য মেঘালয়ের শাসকদল ‘ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি’ (এনপিপি)। এনসিপি পেয়েছে তিনটি আসন। পিপলস্ পার্টি অফ অরুণাচল (পিপিএ) দুইটি এবং কংগ্রেস মাত্র একটি আসনে জিতেছে।
স্বতন্ত্র তিন প্রার্থী জিতেছেন তিনটি আসন।
বিজেপি সূত্রের বরাতে আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছেন, পেমা খান্ডুই আবার মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন সে রাজ্যে।

গত ১৯ এপ্রিল অরুণাচলের পাশাপাশি এবং ৩২ আসনবিশিষ্ট সিকিমে ভোট হয়েছিলো এক দফায়। তার সঙ্গেই অরুণাচলে লোকসভার দু’টি আসনে এবং সিকিমের একমাত্র কেন্দ্রটিতে ভোটগ্রহণ হয়েছিলো।
রোববার শুধুমাত্র বিধানসভা ভোটের গণনা হলো। অরুণাচল এবং সিকিমে লোকসভা ভোটের গণনা হবে মঙ্গলবার দেশের বাকি অংশের সঙ্গেই।
অরুণাচল এবং সিকিমের পাশাপাশি সারা দেশে লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশাতেও। ওই দুই রাজ্যে গণনা হবে ৪ মে।
২০১৪’র বিধানসভা ভোটে জিতে অরুণাচলে কংগ্রেস সরকার গঠন করলেও পরবর্তী সময়ে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু অধিকাংশ বিধায়ককে নিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। ২০১৯ -এর ভোটে সেখানে নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা পেয়েছিল পদ্মশিবির। এবার কংগ্রেস, এনপিপির মতো বিরোধী দলগুলো থাকলেও সেখানে বিজেপির ক্ষমতা পুনর্দখল কার্যত নিশ্চিত বলেই বিভিন্ন জনমত সমীক্ষার ইঙ্গিত ছিলো। আর ঘটলোও তাই।
ভারতে ভোট প্রধানত দুই ধরনের হয়। লোকসভা নির্বাচন ও বিধানসভা নির্বাচন। লোকসভা নির্বাচনে দেশ কে চালাবে অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী কে হবেন। পাঁচবছর পর পর এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
বিধানসভা নির্বাচন, রাজ্য কে চালাবে অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন। এটাও হয় প্রতি পাঁচবছর পর পর।
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের দ্বিগুণ আসন পেতে যাচ্ছে বিজেপি!