ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নিষেধাজ্ঞা ও নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে নজিরবিহীন ঝটিকা বিক্ষোভ প্রদর্শন করল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। কেন্দ্র সরকার যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদের স্থান হিসেবে বাতিল করার ঠিক পরদিনই, মঙ্গলবারভোরে পুলিশি সুরক্ষার চোখ ফাঁকি দিয়ে সেখানে পৌঁছে যান সিজিপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের নেতৃত্বে একদল তরুণ আন্দোলনকারী।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনার এক ভিডিওতে দেখা যায়, সিজিপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে যন্তর মন্তরের উঁচু লোহার গেট ও পুলিশের শক্ত ব্যারিকেড অনায়াসে টপকে ভেতরে প্রবেশ করছেন। ‘ভারত মাতা কি জ’ এবং ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানে পুরো এলাকা কাঁপিয়ে তোলেন তারা। পুলিশ সদস্যরা পেছনে দৌড়ে এসে তাদের আটকানোর চেষ্টা করলে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। শেষ পর্যন্ত উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাদের দ্রুত আটক করে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়।
এই ঘটনার পর সিজিপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক একটি ভিডিও পোস্ট করে মোদী সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, আপনারা কোনো স্থানকে কাগজ-কলমে বাতিল করতে পারেন, কিন্তু মানুষের প্রতিরোধকে বাতিল বা স্তব্ধ করা যায় না! প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভয় এখন সবার সামনে স্পষ্ট। তিনি ভেবেছেন যন্তর মন্তরকে নিষিদ্ধ করলেই আন্দোলন থেমে যাবে; কিন্তু তা হওয়ার নয়। এবার ভারতের প্রতিটি কোণায় নতুন নতুন যন্তর মন্তর গড়ে উঠবে।

উল্লেখ্য, বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে গত ১০ অক্টোবর থেকেই উত্তাল পুরো দিল্লি। ১০ অক্টোবর সকালে বিমানে করে দিল্লিতে নামার পরপরই প্লেন থেকেই আটক করা হয়েছিল সিজিপি শীর্ষনেতা দীপক, দাস ও রাঙ্কাকে। গত শনিবার ও রবিবার জুড়ে রাজধানীজুড়ে হাজার হাজার আন্দোলনকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
এমতাবস্থায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পুলিশ কমিশনার জন্তর মন্তরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বিকল্প হিসেবে রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড নির্ধারণ করে দিলে ক্ষোভের আগুনে ঘৃতাহুতি পড়ে। দিল্লির রাজপথ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমস্ত কড়াকড়ি পেছনে ফেলে তরুণের এই দুঃসাহসিক প্রতিরোধ আন্দোলনকে এক নতুন ও ঝোড়ো মোড়ে নিয়ে দাঁড় করাল।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
