গ্রিসের উত্তরে একটি শহরের কাছে বিধ্বস্ত কার্গো উড়োজাহাজে করে যে সামরিক রসদ দেশে আসছিলো, সেসবের বীমা করা আছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেছেন, এতে করে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে না সরকার।
রোববার (১৭ জুলাই) বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা জানান।
সচিব বলেন, উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়টি দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রিস ও ইতালির বাংলাদেশ দূতাবাস বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছে।
পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বলেন, এখন পর্যন্ত যতটুকু জানা যাচ্ছে, এটা দুর্ঘটনা। গ্রিস কর্তৃপক্ষ হয়ত বলতে পারবে, যেহেতু এটা গ্রিসে ভূপাতিত হয়েছে।
রাশিয়ার সাথে যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনীয় বিমানে সামরিক সরঞ্জাম আনার বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা যদি অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে থাকে, তাহলে সেটা যে কোনো বিমানেই তো হতে পারে। এটা হয়ত অনেক আগের থেকে হয়ে আসছে। সুতরাং যারা সাপ্লায়ার তাদের সাথে কথা না বলে বোঝা যাবে না।
তিনি আরো বলেন, সেনাবাহিনী ও বিজিবির জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে এসব সামরিক রসদ ক্রয় করেছিল বাংলাদেশ।
এর আগে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর- আইএসপিআর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গ্রিসের কাভালা শহরের কাছে ইউক্রেনের যে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে, তাতে করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবির জন্য সার্বিয়া থেকে কেনা প্রশিক্ষণ মর্টার শেল আসছিল।
এতে বলা হয়, ডিজিডিপি (ডাইরেক্টরেট জেনারেল অফ ডিফেন্স পারচেজ) ক্রয় চুক্তির আওতায় কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সার্বিয়া থেকে আনা হচ্ছিল ওই সামরিক রসদ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের জন্য ক্রয় করা প্রশিক্ষণ মর্টার শেল বহনকারী উড়োজাহাজটি গ্রিসে বিধ্বস্ত হয়েছে। ওই চালানে কোনো অস্ত্র ছিলো না এবং চালানটি বীমার আওতাভুক্ত।
এদিকে, রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আন্তনভ-১২ পরিবহন উড়োজাহাজটি সোমবার দুপুর ১২টায় ঢাকায় অবতরণ করা কথা ছিলো।
শনিবার সার্বিয়া থেকে বাংলাদেশে আসার সময় উড়োজাহাজের ইঞ্জিনে সমস্যার কারণে পাইলট কাভালা বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করেন, কিন্তু তার আগেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
ওই উড়োজাহাজে সার্বিয়ার তৈরি সাড়ে ১১ মেট্রিক টন সামরিক রসদ ছিলো জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নেবোসা স্টেফানোভিচ।
আরও পড়ুন: বিধ্বস্ত উড়োজাহাজে মর্টার শেল আসছিলো: আইএসপিআর
তিনি বলেন, মর্টার শেল ও ট্রেনিং শেল ছিলো ওই উড়োজাহাজে। রসদ নিয়ে সার্বিয়ার তৃতীয় বড় শহর নিস থেকে উড্ডয়ন করেছিল বিমানটি।
ড্রোন দিয়ে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, ঘটনাস্থলের চারপাশে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। উড়োজাহাজটিতে ইউক্রেইনের আটজন ক্রু ছিলেন। তারা সবাই নিহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে সার্বিয়া কর্তৃপক্ষ।
একাত্তর/আরএ
