বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তবর্তী
মানুষের শান্তিপূর্ণ জীবন কেড়ে নিয়েছে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অশান্তি।
দু’দিন পরপরই মর্টারশেল এসে পড়ছে সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায়। হতাহত হচ্ছে মানুষ। রাত দিন ভয় আর আতঙ্কের সঙ্গে দিন পার করছে মানুষ।
কক্সবাজার পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আব্দুল ওহাব। তিনি তুমব্রু সীমান্তের বাসিন্দা, সেখানেই তার পরিবার-স্বজন।
রোববার একাত্তরকে তিনি যখন সীমান্ত পরিস্থিতি জানাচ্ছিলেন তখনই আচমকা কয়েক মিটার দূরে এসে পড়ে মিয়ানমার থেকে ছোঁড়া একটি মর্টারশেল।
এভাবে যখন-তখন এমন মর্টারশেল এসে পড়ছে সীমান্ত এলাকায়। সম্প্রতি সেগুলো ঢুকতে শুরু করেছে বাংলাদেশ অংশেও। এরিমধ্যে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
নোম্যানস ল্যান্ডের ছোট্ট অংশটির পরই বাংলাদেশীদের অনেকগুলো বসতি। সেখান থেকে সীমান্ত এতোটা কাছে যে জিরো পয়েন্টে টিলার উপরে উঠলেই দেখা যায় মিয়ানমার সেনাদের কর্মকাণ্ড।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে থেকেই বংশ পরম্পরায় এসব টিলার নিচে বসতি নুরুল বশরের।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষে রোহিঙ্গাদের ঢল শুরুর সময়টা বাদ দিলে এভাবে বাংলাদেশের ভেতরে গোলাবারুদ এসে পড়তে দেখেননি তিনি।
যখন তখনই দেখা যায় হেলিকপ্টারের আনাগোনা। মাইন বিস্ফোরণে পা হারানোর অভিযোগ কিংবা মর্টার শেলের আঘাতে মারা যাওয়ার ঘটনা বাড়াচ্ছে আতঙ্ক।
গত শুক্রবার দিবাগত রাতে মিয়ানমারের ছোড়া মর্টারশেল বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখায় পড়ে এক রোহিঙ্গা কিশোরের মৃত্যু এবং আরও কয়েকজন আহত হয়।
ওই দিন বেলা তিনটার দিকে তুমব্রু সীমান্তের বিপরীতে শূন্যরেখার ৩৫ নম্বর পিলারের কাছে গরু আনতে গেলে স্থলমাইন বিস্ফোরণে অথোয়াইং তঞ্চঙ্গ্যার বাঁ পায়ের গোড়ালি উড়ে যায়।
শনিবার সকাল সোয়া ৯টা থেকে রাখাইনের ওয়ালিডং পাহাড়ে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। রোববারও থেমে থেমে গুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছিলো। এতে আতঙ্ক বিরাজ করছে সীমান্তে।
আরও পড়ুন: রুশ বাহিনীতে যোগ দিলেই বেতন তিন লাখ, সুযোগ পাবে বিদেশিরাও
গত ২৮ আগস্ট বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম এলাকার জনবসতিতে দুটি মর্টারশেল এসে পড়ে।
এতে কেউ হতাহত না হলেও সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।
তমব্রু ও ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। অনেকে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।
