বিশিষ্ট লেখক, সমাজসেবক, রাজনীতিবিদ ও সাবেক সাংসদ শিশু সংগঠক পান্না কায়সার আর নেই। রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল আটটায় তার মৃত্যু হয়।
পান্না কায়সারের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক জানিয়েছেন। তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সারে স্ত্রী এবং অভিনেত্রী শমী কায়সারের মা।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিকাশ, অসাম্প্রদায়িক সমাজ বিনির্মাণে শহীদ জায়া অধ্যাপক পান্না কায়সারের অবদান অপরিসীম। তিনি ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলা’ খেলাঘরের মাধ্যমে এই শ্লোগান সারাদেশের শিশু কিশোর থেকে শুরু করে সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারেও সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।
১৯৫০ সালের ২৫ মে জন্মগ্রহণ করেন পান্না কায়সার। তার আরেক নাম সাইফুন্নাহার চৌধুরী।
পান্না কায়সার বাংলাদেশের মানুষের কাছে এক অনুপ্রেরণার বাতিঘর। ১৯৬৯ সালে শহীদুল্লাহ কায়সারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি স্বামীকে হারান।
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আলবদর বাহিনীর কিছু সদস্য শহীদুল্লাহ কায়সারকে তার ২৯বি-কে গাঙ্গুলী লেনের বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়। তারপর তিনি আর ফিরে আসেননি।
এরপর পান্না কায়সার একা হাতে মানুষ করেন তার দু’সন্তান শমী কায়সার এবং অমিতাভ কায়সারকে।
তিনি ১৯৭৩ সাল থেকে শিশু কিশোর সংগঠন ‘খেলাঘর’ এর প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। ১৯৯০-তে তিনি এই সংগঠনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: ‘স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে’
পান্না কায়সার ১৯৯৬-২০০১ সালের জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত আসনের সাংসদ ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় অবদান রাখার জন্য তাকে ২০২১ সালের বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
একাত্তর/আরএ
