সাইবার নিরাপত্তা আইনে শাস্তি কমানোর প্রস্তাব

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৩, ০৬:১৬ পিএম

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রতিস্থাপিত হয়ে আসছে সাইবার নিরাপত্তা আইন। এ আইনে শাস্তি কমানোর পাশাপাশি, যখন তখন গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশি ক্ষমতাও শিথিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু অনেকের মতে, বাক স্বাধীনতা ও ভিন্নধর্মী লেখা প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে এমন ধারা যদি নতুন আইনেও থাকে, তবে তা শেষ পর্যন্ত হয়রানির কাজেই ব্যবহৃত হতে পারে।

শনিবার রাজধানীর বনানীতে ঢাকা গ্যালারিতে এডিটরস্ গিল্ডের গোলটেবিল আলোচনা বক্তারা বলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইন দরকার, তবে এই আইন যেন ডিজিটাল নিরাপত্তার আইনের মতো বাক স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করার পাশাপাশি নিপীড়নমূলক না হয় সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য তাড়াহুড়া না করে আইনটি চূড়ান্ত করার আগে অংশীজনদের সাথে আলোচনার তাগিদ দিলেন বিশ্লেষকরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গ্লোবাল টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা। 

আলোচনায় সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক গোলাম রহমান বলেন, ‘অজামিনযোগ্য যে ধারাগুলো সেগুলো অনেকক্ষেত্রেই জামিনযোগ্য হয়েছে। বিচারের আগেই যখন একন মানুষ শাস্তি পায তখন সেটা অন্যায়। আইন এটা সমর্থন করে না। এখানে সেই সুযোগটা কমেছে। কিন্তু পুরো কমেছে তা বলা যাবে না। কারণ, একজন সাব-ইন্সপেক্টরকে যথেষ্ট দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি যেকোনো সময় একজনের বাড়িতে ঢুকতে পারবেন।’

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, ‘আমার বউ আমার মেয়ে আমাকে বলে, এত কথা না বললে হয় না। এটা হলো ভয়ের সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতি বিরাজ করছে। 

গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের ফলে বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নাম বদলে যাচ্ছে। নতুন নাম হচ্ছে ‘সাইবার সিকিউরিটি আইন’। একই সঙ্গে আইনের অনেকগুলো ধারায় সংশোধন আনা হচ্ছে। বেশকিছু জামিনঅযোগ্য ধারাকে বলে জামিনযোগ্য করা হয়েছে। সাজাও কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পরিবর্তন করে নতুন সাইবার সিকিউরিটি আইনের খসড়া নিয়ে বিভিন্ন মহল সমালোচনা করছে। সরকারের মন্ত্রীরা এ নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেও বিভ্রান্তি দূর হচ্ছে না।

গোলেটেবিল বৈঠকে আর্টিকেল-১৯ এর পরিচালক ফারুক ফয়সাল বলেন, ২০১৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এই আইনের যত অপব্যবহার হয়েছে তার ওপর একটা বিচার বিভাগীয় তদন্ত হতে হবে। একটা শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে। যারা এতে জড়িত ছিলো তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

আইনজীবী ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ইমতিয়াজ মাহমুদ বলেন, ‘কণ্ঠরুদ্ধ করতে সুযোগ যতদিন থাকবে। ততদিন পর্যন্ত এটা ভয়াবহ বোমার মতো এখানে থাকবে। এটার ভয়ে আমাদের সৃজনশীল লেখ যারা আছেন ওরা থেকে শুরু করে স্কুল কলেজের ছেলেমেয়রা পর্যন্ত একটা দাস মনোবৃত্তি নিয়ে বড় হবে। ভয়ে কথা বলতে পারবে না। বললে না আবার ধরে।’

হ্যাকিং, অশ্লীলতা, উপাত্ত সুরক্ষার মতো বিষয়ের জন্য আইনের প্রয়োজন রয়েছে –এ বিষয়ে একমত আলোচকরা। তারা বলছেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় সাইবার অপরাধ ঠেকাতে এ আইন পুরোপরি বাতিলের সুযোগ নেই।

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, ‘যদি নখ না থাকে দাঁত না থাকে সেরকম একটি আইন যদি হয়ে যায় তবে সম্ভাব্য অপরাধী মনে করতে পারে, এখন সময় এসে গেছে, টু গো ফর অ্যাকশন। তখন কিন্তু ঝামেলা আছে। রামুর ভয়াবহতা আমার চাক্ষুষ দেখা হয়েছে। সাঈদীর ভয়াবহতা চাক্ষুষ দেখা হয়েছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, ‘নারী নির্যাতন আইনের অনেক পুরুষকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। জমি দখলের জন্য। এই আইনটাও (ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন) কিন্তু রাজনীতিক, প্রভাবশালী, ব্যবসায়ী শ্রেণিরদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক এ জে এম শফিউল আলমা ভুইয়া বলেন, ‘যে সাইবার বুলিয়েংর শিকার হয়… আজকে যদি আমার বিরুদ্ধে একটি ফেসবুক ক্যাম্পেইন শুরু করেন যার দ্বারা আমার মানহানি হয়। সেটার জন্যতো প্রতিকার থাকতে হবে।’

দৈনিক আমাদের সময়ের এমিরেটাস সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান বলেন, ‘আইনটা সংস্কার করে পুরোটা বাতিল করে দিলে আজকের থেকে হয়তো এক বছর পরে আমাদের গোলটেবিল করতে হবে সরকারেরতো দাঁত-নখ নেই। এই আইন দিযে কিছুই করতে পারছে না। 

সাইবার নিরাপত্তা আইন তৈরির আগে তাড়াহুড়া না করে অংশীজনদের সাথে আলোচনার তাগিদ দেন আলোচকরা।

দেশের সাংবাদিক, আইনজীবী, বুদ্ধিজীবীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ব্যাপক আপত্তি ও উদ্বেগের মধ্যে ২০১৮ সালে সংসদে পাস হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের বিতর্কিত ৫৭সহ কয়েকটি ধারা বাতিল করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা হলেও পুরনো আইনের বাতিল হওয়া ধারাগুলো রেখে দেয়ায় শুরু থেকেই এর অপপ্রয়োগের শঙ্কা করছিলো বিভিন্ন মহল।

আইনের ‘অপব্যবহার’ বন্ধে আশ্বাসের মধ্যেও সংবাদকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার চলছিলো। সাংবাদিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এই আইনের মাধ্যমে ‘গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ’ করা হচ্ছে। সেই আইন পাল্টে যখন নতুন করা হচ্ছে তা নিয়েও শঙ্কাও কম নয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ডিজিটাল নিরাপত্তার আইনে হওয়া ‘অপব্যাবহার’ এতে কমবে। গণমাধ্যমের ওপর যে ‘চাপ’ তৈরি হয়েছিলো তাও প্রশমিত হবে। 

 

 

একাত্তর/কেএসএইচ

 

 

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি’র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইউনেস্কোর একটি প্রতিনিধিদল। বুধবার সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে ইউনেস্কোর হেড অব অফিস ও কান্ট্রি...
জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে দণ্ডিত আসামির বক্তব্য প্রচার না করার অনুরোধ জানিয়েছে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি। তা না হলে ‘আইনগত ব্যবস্থা’ নেওয়ার কথা বলেছে সংস্থাটি।
দেশের সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় এই নির্দেশ দেওয়া হয়।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে...
তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি জয়ের জন্য বাংলাদেশকে ১৪৪ রানের লক্ষ্য দিয়েছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।
ইউরোপসেরা স্পেনের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে মাঠে নামার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ফুটবল বিশ্বে আবেগের এক মহা বিস্ফোরণ ঘটালেন আর্জেন্টিনার মহানায়ক লিওনেল মেসি।
নুহাশপল্লীর সবুজ নিস্তব্ধতায় ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই সমাধি প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। শ্বেতপাথরের সমাধিটি ভরে যায় ভক্তদের আনা ভালোবাসার অর্ঘ্যে। কারো হাতে ছিল প্রিয় লেখকের প্রিয় ফুল, কারো হাতে তার...
স্পেন ফুটবল দলের জন্য বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছানোটা এখনও বেশ নতুন একটা অনুভূতি, কারণ ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে তারা এই নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বমঞ্চের শেষ লড়াইয়ে পা রেখেছে। তবে দলটির অধিনায়ক...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর