রিটারিং কর্মকর্তা বৈধ ঘোষণা করেছেন এমন বেশি কিছু প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল আবেদন জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি)।
রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রার্থিতা বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের সময়সীমা শেষ হয়েছে শনিবার।
রোববার থেকে এসব আপিল আবেদন শুনানি করে সিদ্ধান্ত দেবে ইসি। গত ৫ ডিসেম্বর আপিল শুরু হওয়ার পর থেকে শেষ পর্যন্ত এ পর্যন্ত ৫৬১টি আবেদন পড়েছে। প্রথম দিন ৪২, দ্বিতীয় দিন ১৪১, তৃতীয় দিন ১৫৫, চতুর্থ দিন ৯৩ জন এবং আজ শেষ দিন ১৩০ জন আপিল আবেদন করেছেন। এসব আপিল আবেদনের মধ্যে বেশ কিছু আবেদন পড়েছে বৈধ প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে।
শেষ দিনে বরিশাল-৫ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান সরকারের পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ একে অপরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে ইসিতে পাল্টাপাল্টি আপিল করেছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে বৈধ হওয়ায় দুই প্রার্থীই পরস্পরের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে পৃথক আপিল দায়ের করেছেন।
গত ৬ ডিসেম্বর সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে আপিল করেন বরিশাল-৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহিদ ফারুক। তার বিরুদ্ধে হলফনামায় ‘অসত্য তথ্য’ দেওয়ার অভিযোগ আনেন নৌকার প্রার্থী ফারুক।
এদিকে আপিল দায়েরের শেষ দিন শনিবার জাহিদ ফারুকের প্রার্থিতা বাতিলের জন্য আপিল করেন সাদিক আব্দুল্লাহ। তিনি জাহিদ ফারুকের বিরুদ্ধে হলফনামায় মামলার ‘তথ্য গোপনের’ অভিযোগ আনেন।
এছাড়া দিনাজপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিশ্বজিত কুমার, লালমনিরহাট-১ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত মোতাহার হোসেন, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু হাশেম রেজা, বরিশাল-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথ, বরিশাল-৫ আসনের আওয়ামী লীগের জাহিদ ফারুক, ঝালকাঠী-১ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাজাহান ওমর, ময়মনসিংহ-৯ আসনের আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম, টাঙ্গাইল-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছোট মনির, নেত্রকোনা-৪ আসনে আওয়ামী লীগের সাজ্জাদুল হাসান, নোয়াখালী-৪ আসনে আওয়ামী লীগের একরামুল করিম চৌধুরী ও কুমিল্লা-৪ আসনের আওয়ামী লীগের রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করা হয়েছে।
চাদঁপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র জালাল আহমেদ, চাদঁপুর-৫ আসনের স্বতন্ত্র গাজী মঈন উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১০ আসনের স্বতন্ত্র মোহাম্মদ মনজুর আলম (দুটি আপিল), চট্টগ্রাম-১৫ আসনে আওয়ামী লীগের আবু রেজা মুহম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী, চট্টগ্রাম-২ আসনের আওয়ামী লীগের খাদিজাতুল আনোয়ার, চট্টগ্রাম-৯ আসনের আওয়ামী লীগের মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং গাইবান্ধা-৪ আসনে একজন বৈধ প্রার্থীর প্রার্থিতাও বাতিল চেয়ে আপিল করা হয়েছে।
ফরিদপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদের প্রার্থিতা বাতিল চেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম হক। এর আগে শামীমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেছিলেন আজাদ।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৭ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট হবে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ৩০ নভেম্বর। ১ ডিসেম্বর থেকে বাছাই শুরু হয়, শেষ হয় ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায়।
রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ও শুনানি ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ১৮ ডিসেম্বর।
প্রার্থিতা ফেরত ও বাতিলের দাবিতে ইসিতে ৫৬১ আবেদন
পঙ্কজের প্রার্থিতা বাতিল, নিজেরটা ফিরে পেতে আবেদন শাম্মীর