আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদেশিদের পক্ষ থেকে এখন আর অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। বরং তারা ভোটকে ভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ দেখতে চান বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আর কোনো আসনের কোনো কেন্দ্রে একটা ভোট কারচুপি হলে সেই কেন্দ্রে সঙ্গে সঙ্গে ভোট বন্ধ করে দেয়া হবে বলে প্রার্থীদের সাবধান করে দিয়েছেন সিইসি।
শনিবার বরিশালে রিটার্নিং কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে জেলার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এ কথা বলেন তিনি।
বৈঠকে বিদেশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের নীতি নির্ধারকদের বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
তিনি বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে মিটিং করেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মিটিং করেছেন। অ্যাম্বাসেডর সাহেবরা, জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা আমাদের সাথেও মিটিং করেছে বহুবার।
‘আমেরিকার অ্যাম্বাসেডর বলেন, ইইউয়ের অ্যাম্বাসেডর বলেন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া বাদ নেই। তারাও মিটিং করেছেন।’
সিইসি বলেন, ‘তাদের একটা কথাই, দাবিটা কিন্তু খুব অল্প এখন। ওই কথাটা এখন আর চলবে না, যে অংশগ্রহণমূলক কথাটা এখন নেই। এখন যে নির্বাচনটা হতে হবে, এ সম্পর্কে বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ। কোনো পক্ষপাতিত্বের সুযোগ যেনো না থাকে।’

কারচুপি হলে ভোট বন্ধ
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো কেন্দ্রে ভোট কারচুপির খবর এলে সেই কেন্দ্রে ভোট নেয়া বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘ভোটারদেরকে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতে হবে। এটা আপনারা যদি কেউ কোনো রকম ব্যত্যয় সৃষ্টি করেন, হয়তো আপনাকে আমি দেখতে পাবো না, কিন্তু সেন্টারের খবর পেয়ে যাবো।
‘সেন্টারে যদি একটা ভোট কারচুপি হয়, যদি খবর আসে, ওই সেন্টারের ভোট সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে।
‘সকাল আটটায় যদি হয়, নয়টায় যদি হয়, আমরা এবার বন্ধ করে দেবো। কারণ ফলাফল ওই একটার জন্যই প্রভাবিত হতে পারে। আমরা অপেক্ষা করবো না।’
এ সময় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠানে প্রার্থীদের কাছ থেকে সহযোগিতা কামনা করেন সিইসি হাবিবুল আউয়াল।
তিনি বলেন, ‘কাজেই আপনাদের সহযোগিতা আমাদের লাগবেই। আমরা হাতজোড় করে আপনাদের কাছ থেকে এই সহযোগিতা চাইতেছি। আপনারা সহযোগিতা করবেন।
‘অনেকেই বলবেন, প্রশাসন সবসময় সরকারি দলের সঙ্গে পক্ষপাতিত্ব করে থাকে। এ ধরনের একটা ধারণা দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু যদি সকলেই সচেতন হয়ে থাকেন, তাহলে এটা সম্ভব নয়।’
প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আজকে এ কারণেই এসেছি, আপনাদের কাছ থেকে প্রুতিশ্রুতি পেতে যে, নির্বাচনটা অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ হবে। আপনারা সহযোগিতা করবেন।’
যে কোনো মূল্যে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করা হবে: সিইসি
দুইশ’ প্রার্থীকে শোকজ, চলছে মামলার প্রস্তুতি