কুমিল্লা-৬ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাহাউদ্দিন বাহারের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারের সময় সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেয়া এবং ক্যামেরা ভাঙচুরের ঘটনার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
রোববার নির্বাচন কমিশনের আইন শাখার প্রধান মাহবুবার রহমান জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে এর সত্যতা পাওয়া গেছে।
তিনি জানান, গত ২০ ডিসেম্বর নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহের সময় একাত্তর টেলিভিশনসহ কয়েকজন সংবাদ কর্মীর লাইভ ডিভাইস ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেন কুমিল্লা-৬ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহারের কর্মীরা। তার আগে একাত্তর টেলিভিশনে তার সংবাদের দরকার নেই বলে কর্মীদের উসকে দেন বাহার। পাশাপাশি সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। এঘটনা জানার পর দ্রুত তদন্ত করে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। তদন্ত কর্মকর্তারা দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে নির্বাচন কমিশনের আইন শাখায় এই প্রতিবেদন জমা দেয়।
এদিকে অনুসন্ধান কমিটির সূত্র জানিয়েছে, বাহারের বিরুদ্ধে গণপ্রতিনিধিত্ব আইন (আরপিও) ও নির্বাচনী আচরণবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। আরপিও’র সংশ্লিষ্ট ধারামতে এক বছর থেকে পাঁচ বছরের সাজা ও অর্থদণ্ড এবং নির্বাচনী আচরণবিধির অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ছয় মাসের সাজা ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ ডিসেম্বর আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের নির্বাচনী প্রচারে সময় তারই উপস্থিতি ও নির্দেশে একাত্তর টেলিভিশনের প্রতিবেদক ও ক্যামেরাম্যানের উপর হামলা করা হয়। তাদের ডিভাইস ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, উল্লেখিত অভিযোগ ও ঘটনাটি কমিটি সতর্কতার সঙ্গে অনুসন্ধান করেছে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে কমিটি ঘটনাস্থল সরজমিনে পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনাস্থলে একাত্তর টেলিভিশনের নিজস্ব প্রতিবেদক কাজী এনামুল হক ফারুককেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এই অভিযোগ ও ঘটনা সংক্রান্তে নৌকা মার্কার প্রার্থী বাহাউদ্দিন বাহারকে অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করা হলে তিনি তার স্বাক্ষরিত ব্যাখ্যা প্রতিনিধির মাধ্যমে দাখিল করেন।
লিখিত ব্যাখ্যায় নৌকা মার্কার প্রার্থী তার প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমার সঙ্গে একাত্তর টেলিভিশনের নিজস্ব প্রতিবেদক কাজী এনামুল হক ফারুকের আত্মীয়তার সম্পর্কের বিষয় উল্লেখে তার মাধ্যমে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে অপপ্রচার করছেন মর্মে দাবি করেছেন।
সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার নিউজ কভারেজ ইস্যু নিয়ে ওই হামলার ঘটনা ঘটে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঘটনায় বাহাউদ্দিন বাহারের এপিএস ইকবাল হোসেনসহ তার নেতাকর্মীরা জড়িত বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে।
এছাড়া একাত্তর টেলিভিশনসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বাহারের একটি উঠান বৈঠকের বক্তব্য প্রকাশিত হয়। এতে বাহারকে বলতে শোনা যায়, ‘যদি কোনো বিএনপি এবং জামায়াতের কোনো কর্মীকে কোনো প্রার্থীর পক্ষে পাওয়া যায়, তার হাত-ঠ্যাং ভেঙে দেবেন আপনারা, আমি আ ক ম বাহাউদ্দিন আপনাদের সঙ্গে আছি’।
অনুসন্ধান কমিটি এ বক্তব্যকে আচরণবিধির লঙ্ঘন উল্লেখ করে একই ধরনের আইনি ব্যবস্থারও সুপারিশ করেছে।
সুষ্ঠু ভোটে বাধা দিচ্ছে বিএনপি: কাদের 