এবারের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের স্লোগন হলো, ‘নারীর সমঅধিকার, সমসুযোগ এগিয়ে নিতে হোক বিনিয়োগ’।
বিনিয়োগের প্রশ্ন যখন উঠেছেই, বেসরকারি চাকরি করা নারীদের জন্য প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ আসলে কতোটুকু তা জানা দরকার। সরজমিনে গিয়ে দেখা যাচ্ছে আইন অনুযায়ী ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি জোটেনা অধিকাংশ কর্মজীবী নারীর। কোন নারী সন্তানসম্ভবা হলে প্রতিষ্ঠানের কাছে তিনি যেনো বোঝা হয়ে ওঠেন।
নারীর জন্য মা হওয়া কিংবা সন্তান লালন পালন করাটা প্রকৃতির আর্শীবাদ হলেও কর্মজীবী নারীর জন্য তা যেনো অভিশাপ। সরকারি কর্মীরা ছয় মাসের ছুটি পেলেও বেসরকারি খাতে চার মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটির বিধানও মানা হয় না। উল্টো বাধ্য করা হয় চাকরি ছাড়তে।
যেমন গার্মেন্টস কর্মী হাসি বেগমের কথাই ধরা যাক। দীর্ঘদিন কাজ করেছেন গার্মেন্টস কর্মী হিসেবে। গর্ভকালীন সময়টাতেও পরিশ্রম কম হয়নি। ছুটির সময় প্রাপ্য বেতনতো পানইনি উল্টো হারিয়েছেন গর্ভের সন্তান আর চাকরী দুটোই। এমন অনেক নারীই গর্ভকালীন ছুটির বেলায় বৈষম্যের শিকার হন। শ্রম আদালতে মামলা করলেও দীর্ঘসূত্রিতা কাটে না।
বড় বড় প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পদস্থ নারী কর্মকর্তারাও গর্ভকালীন সময়ে যেনো প্রতিষ্ঠানের বোঝা হয়ে উঠেন। চাকরি হারানো ভয়ে কথা বলাও মানা। তাই যোগ্যতায় পুরুষের সমান হয়েও কর্মস্থলে পিছিয়ে পড়েন নারীরা।
তাসলিমা আখতারের মতোন নারী অধিকার কর্মীরা জানান, গার্মেন্টসকর্মী সহ পোশাকখাতের শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়ানো জরুরী।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নারীর মা হয়ে ওঠার মৌলিক অধিকার যেনো কর্মজীবনে বাধার কারন হয়ে না ওঠে সেটি নিশ্চিত করা দরকার সবার আগে।
