সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে ভারত মহাসাগরে ২৩ নাবিকসহ জিম্মি বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহকে উদ্ধারে কোন কোন প্রক্রিয়ায় চেষ্টা চলছে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করার বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি যাতে করে আমাদের নাবিকদের সম্পূর্ণ সুস্থভাবে এবং জাহাজটিও অক্ষতভাবে উদ্ধার করতে পারি। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কী প্রক্রিয়ায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি বা করছি সেটি আসলে জনসম্মুখে প্রকাশ করার বিষয় নয়।
জিম্মি নাবিক ও জাহাজ নিয়ে গণমাধ্যমে অতিমাত্রায় প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে তার ফলাফল মনে করিয়ে দিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, গণমাধ্যমে এটি নিয়ে অতি মাতামাতি হলে তারা সেগুলো স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেখে। দেখার পর যারা হাইজ্যাক (ছিনতাই) করেছে তারা এটির মূল্যমানটা ঠিক করবে। এটি যত বেশি মিডিয়া কাভারেজ ও যত বেশি গুরুত্ব পাবে ততো বেশি তারা তাদের অবস্থানকে দৃঢ় করবে। এটি আগেও হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সুতরাং আমি সবাইকে অনুরোধ জানাব, এ নিয়ে সতর্কভাবে রিপোর্ট করার জন্য। আমি কোনো কোনো কাগজে দেখেছি… একটি কাগজে লিখেছে, সেই জাহাজের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে, যেটি মিথ্যা। আরেকটি কাগজে লিখেছে, অমুক জায়গায় টেলিফোন লুকিয়ে রেখেছে, সেখান থেকে যোগাযোগ করছে।
তিনি বলেন, এসব কথা রিপোর্টে এলে নাবিকদের সেখানে থাকাটা কঠিন হয়ে যাবে। সুতরাং এগুলো সতর্কতার সঙ্গে সবার অ্যাড্রেস করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
গত মঙ্গলবার মোজাম্বিক থেকে ৫৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লা বোঝাই করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে উদ্দেশ্যে রওনা হয় চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ী কবির গ্রুপের জাহাজটি। পথে ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়ে।
মোগাদিসু থেকে এক হাজার ১১১ কিলোমিটার পূর্বে ভারত মহাসাগর থেকে ছিনতাই করে বাণিজ্যিক কার্গো জাহাজটিকে প্রথমে নেয়া হয় সোমালিয়ার গারাকাড এলাকায়। উপকূল থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার দুরে নোঙর ফেলা হয়।
এর পর আবার অবস্থান বদলে আবদুল্লাহকে নেয়া হয় গদবজিরান উপকূল এলাকায়। এবার নোঙর ফেলা হয় উপকূলের আরো কাছে, মাত্র সাড়ে ৭ কিলোমিটার দুরে।
কবির গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম রোববার একাত্তরকে বলেন, গতকাল (শনিবার) রাত আটটার দিকে নাবিকদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে।
‘তারা জানিয়েছেন, সবাই ভালো আছেন, তবে একটু চিন্তাগ্রস্ত। তাদেরকে এর আগেরদিন কেবিনে থাকতে দিলেও সবাইকে জড়ো করা হয়েছে জাহাজের ব্রিজে,’ যোগ করেন তিনি।
মিজানুল বলেন, তবে আমাদের সঙ্গে দস্যুদের কোনো যোগাযোগ হয়নি। আমরা আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
এর আগে আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাংলাদেশের বাণিজ্যিক জাহাজ ছিনতাই হয়েছিলো ২০১০ সালের ডিসেম্বরে। আরব সাগর থেকে সোমালিয়ার জলদস্যুরা ২৭ নাবিকসহ এমভি জাহান মণি নামের ওই জাহাজ জিম্মি করে নিজেদের জলসীমায় নিয়ে যায়।
জাহান মণিও কবির গ্রুপের জাহাজ। তখন মালিকপক্ষ দস্যুদের সঙ্গে আপোস-রফা করে ১০০ দিন পর নাবিকসহ জাহাজটি ফিরিয়ে এনেছিলো।
এমভি আবদুল্লাহর সব নাবিক ও ক্রুদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়ে নৌ পরিবহণ মন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বিভিন্ন পার্টির সাথে আলোচনা চলছে। সবাইকে নিরাপদ ভাবেই ফিরিয়ে আনা হবে।। তবে কতোদিন সময় লাগবে, তা ঠিক বলা যাচ্ছে না।
শুক্রবার রাতে এবং শনিবার ভারতের প্রথম সারির বেশকিছু সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনের শিরোনামে এমভি আব্দুল্লাহকে ভারতীয় নৌবাহিনী উদ্ধার করেছে বলে জানানো হলেও, এ সংক্রান্ত কোনো তথ্যই দেয়া হয়নি। আর এই দাবির সত্যতা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কোনও সূত্রই নিশ্চিত করতে পারেনি।
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক একাত্তরকে বলেন, সোমালিয়া জলদস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশি জাহাজটি এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। সোমালিয়ার উপকূল দক্ষিণে চার নটিক্যাল মাইল দূরে নোঙর অবস্থায় রয়েছে এমভি আবদুল্লাহ।। শুরুতে জাহাজে ছিলো ২২ জন জলদস্যু, এখন আছে ৩৫ জন।
তিনি আরও জানান, জাহাজটিতে অবস্থানরত নাবিকদের মধ্যে কারো সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ভারতীয় নৌবাহিনী জাহাজটিকে উদ্ধার করার খবরটির কোন সত্যতা নেই। বাংলাদেশি জাহাজের আশেপাশে ভারতীয় কোন নৌবিহার অবস্থান করছে না বা তাদের উদ্ধার করার কোন খবর নেই।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ইন্ডিয়া টুডে, দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ভারতীয় বার্তা সংস্থা ইন্দো এশিয়া নিউজ সার্ভিস (আইএএনএস), ফার্স্ট পোস্ট সহ বেশকিছু সংবাদমাধ্যম ‘ছিনতাইকৃত বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহকে উদ্ধার করেছে ভারতীয় নৌবাহিনী’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেছে।
শিরোনামে ওই কথা বলা হলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত মহাসাগরে ছিনতাইয়ের শিকার বাংলাদেশি পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজকে জরুরি সহায়তার অনুরোধে সাড়া দিয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী। এই অঞ্চলে ভারতীয় নৌবাহিনীর এই ধরনের ধারাবাহিক অভিযানের সর্বশেষ ঘটনা এটা।
জিম্মি আবদুল্লাহর সর্বশেষ পরিস্থিতি যা জানা গেলো