চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে এক পাইলটের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর মোহনায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বিধ্বস্ত বিমানটি ইয়াকোভলেভ ইয়াক-১৩০ মডেলের। উড্ডয়নের পরপরই ওই বিমানে আগুন লেগে যায়। পরে সেটি খণ্ড খণ্ড হয়ে বোট ক্লাবের পেছনে কর্ণফুলী নদীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে।
আইএসপি আর জানিয়েছে, ওই যুদ্ধবিমানে পাইলট স্কোয়াড্রন লিডার মুহাম্মদ আসিম জাওয়াদ নিহত হয়েছেন।
আরেক পাইলট উইং কমান্ডার মো. সোহান হাসান খাঁন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুই পাইলটকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী দল এবং স্থানীয় জেলেদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উদ্ধার করা হয়। স্কোয়াড্রন লিডার আসিম জাওয়াদ এর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত চিকিৎসার জন্য বিএনএস পতেঙ্গাতে নেয়ার পর চিকিৎসক সর্বাত্মক প্রচেষ্টার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্কোয়াড্রন লিডার আসিম জাওয়াদ ২০০৭ সালে সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল থেকে এসএসসি, ২০০৯ সালে সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ২০১২ সালে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্ থেকে বিএসসি (এ্যারো) পাশ করেন।
তিনি ২০১০ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যোগদেন। ২০১১ সালের ১ ডিসেম্বর ক্যাডেটদের জন্য সর্বোচ্চ সম্মান সোর্ড অব অনার প্রাপ্তিসহ জিডি (পি) শাখায় কমিশন লাভ করেন। চাকরীকালীন তিনি বিমান বাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটি ও ইউনিটে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত ছিলেন।
আসিম জাওয়াদ পেশাদারি দক্ষতা ও সাফল্যের স্বীকৃতির জন্য ‘মফিজ ট্রফি’, ‘বিমান বাহিনী প্রধান ট্রফি’ ও বিমান বাহিনী প্রধানের প্রশংসাপত্র লাভ করেন। এছাড়াও ভারতীয় বিমান বাহিনীতে কোর্সে অংশগ্রহণ করে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘চিফ অব এয়ার স্টাফ’স ট্রফি ফর বেস্ট ইন ফ্লাইং (ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্স) অর্জন করেন।
আসিম জাওয়াদ ১৯৯২ সালে মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার গোপালপুর গ্রামের জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ডা. মোঃ আমান উল্লাহ এবং মায়ের নাম নীলুফা আক্তার খানম।
স্কোয়াড্রন লিডার আসিম চীন থেকে ফাইটার পাইলটস ফাউন্ডেশন ট্রেনিং কোর্স, ভারত থেকে অপারেশনাল ট্রেনিং ইন এভিয়েশন মেডিসিন ফর ফাইটার পাইলটস কোর্স, বেসিক এয়ার স্টাফ কোর্স ও কোয়ালিফাইড ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর্স কোর্স করেন।
১২ বছর পাঁচ মাস বিমান বাহিনীতে চাকরি করা আসিসের বয়স হয়েছিলো ৩২ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক কন্যা, এক পুত্র, বাবা-মা রেখে গেছেন।
