পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ শেষের সমাপনী অনুষ্ঠান হবে শুক্রবার। এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে শেষে মন্ত্রিপরিষদের সমন্বয় ও সংস্কার বিভাগের সচিব মাহমুদুল হোসাইন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, সেতুর মাওয়া প্রান্তে ওই সমাবেশ হবে।
মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, গত ৩০ জুন পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। সমাপ্তি উপলক্ষে শুক্রবার আয়োজিত সমাবেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকার সম্মতি জানিয়েছেন। যেহেতু হাতে সময় কম, তাই এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টসহ অন্যান্য কাজগুলো সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
২০২২ সালের ২৫ জুন নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত দেশের দীর্ঘতম সেতুটি উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান। উদ্বোধনের দুদিন পর সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
গত দুই বছরে সেতু দিয়ে এক কোটি ২৭ লাখ যানবাহন পারাপার হয়েছে। গত ২৯ জুন পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে এক হাজার ৬৬১ কোটি টাকা।
মাহমুদুল হোসাইন খান জানান, প্রতিদিন গড়ে ১৯ হাজার যান চলাচল করেছে এই সেতুতে। দৈনিক গড়ে দুই কোটি ৩০ লাখ টাকার টোল আদায় হয়েছে হয়েছে।
পদ্মা সেতু নির্মাণে খরচ হয়েছে ৩২ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। ২০০১ সালের ৪ জুলাই মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন শেখ হাসিনা। এরপর ২০০৭ সালের ২৮ আগস্ট পদ্মা সেতু প্রকল্পের অনুমোদন দেয় তখনকার সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একনেক। তখন প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিলো ১০ হাজার ১৬২ কোটি টাকা।
২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর সেতুর কাজ শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকার। এরপর ২০১১ সালে পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজের শুরুতে বিশ্ব ব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরে যায়। যদিও পরে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করে ভিযোগের সত্যতা পায়নি। কানাডার আদালতেও এই সংক্রান্ত মামলাটি প্রমাণ করা যায়নি।
২০১২ সালে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রিসভা। ২০১৫ সালে পদ্মার মূল সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সমুদ্রে দূষণ ও অতিরিক্ত মাছ ধরার মতো চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে: স্পিকার