‘মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিরা পাবে না তো রাজাকারের নাতিরা পাবে?’

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৪, ০৬:৫৯ পিএম

সরকারি চাকরিতে বীর মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিরা কোটা সুবিধা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতি-নাতনিরা কোটা সুবিধা পাবে? এমন প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এতো ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিরা কোটা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতিরা কোটা পাবে? তা তো আমরা দিতে পারি না।

রোববার বিকেলে চীন সফর নিয়ে গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এত ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতি কোটা পাবে না তাহলে কী রাজাকারের নাতি-পুতিরা কোটা পাবে? সেটা আমার প্রশ্ন। দেশবাসীর কাছে প্রশ্ন। মুক্তিযোদ্ধারা খেয়ে না খেয়ে কাদামাটি মাখিয়ে তারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিল বলেই আজ দেশ স্বাধীন। আজ সবাই বড় বড় পদে আসীন। নইলে তো ওই পাকিস্তানিদের বুটের লাথি খেয়ে চলতে হতো।’

তিনি বলেন, এখন যারা লাফাচ্ছে তারা মনে হয় পনেরো বিশ বছর আগের বিষয়টাও জানে না। আওয়ামী ক্ষমতায় আসার আগে বাংলাদেশের অবস্থা কী ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল অস্ত্রের ঝনঝনানি, আর সেশন জোট। কোনো সেমিস্টার সিস্টেম ছিল না। গ্রেডিং পদ্ধতি ছিল না, বহু সাবজেক্ট ছিল না। কারিকুলামে পরিবর্তন আনা, সেমিস্টার সিস্টেম আনা, গ্রেডিং পদ্ধতি আনা সব কিছুই কিন্তু আওয়ামী এনে দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা আন্দোলন করছে তারা আইন মানবে না, আদালত মানবে না, সংবিধান কী সেটা তারা চেনে না। একটা কাজ করতে গেলে তার যে নীতিমালা, বিধিমালা বা ধারা থাকে বা একটা সরকার কীভাবে চলে এ সম্পর্কে কোনো ধারণাই এদের নাই, কোনো জ্ঞানই নেই।

তিনি বলেন, তারা পড়োশোনা করছে, ভালো নাম্বার পাচ্ছে সেটা ঠিক। কিন্তু ভবিষ্যতে এরা তো নেতৃত্ব দেবে, এই ধারণাগুলো তাদের তো দরকার। আমাদের সংবিধান কী বলে সেটা তাদের জানা উচিত। একটা রাষ্ট্র পরিচালনায় কী ধরনের কাজকর্ম চলে সে সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা আছে? সে ধারণা তো আমরা দেখি না। যেটা আদালতে চলে গেল সেটা আদালত দেখবে। আদালত তাদের সুযোগ দিয়েছে। তারা আদালতে যাক তাদের বিষয়গুলো বলুক। না তারা রাজপথেই সমাধান করবে। বিষয়টা যখন আদালতে চলে গেছে সেখান থেকে আদালত রায় দিয়েছে সেখানে তো আমার কিছু বলার নেই, এটা সংবিধানও বলে না।

আদালতের প্রসঙ্গে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু আদালতে বিষয়টা চলে গেছে আমাদের কিছু করার নেই। সংসদেরও কিছু করার নেই। তারা রাজপথে সমাধান করবে, তারা আন্দোলন করুক। তারা যতক্ষণ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করবে করে যাক। কিন্তু কোনো ধ্বংসাত্মক কিছু করলে, পুলিশকে মারধর করলে, পুলিশের গাড়ি পোড়ালে তখন আইন তার আপন গতিতে চলবে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই।

কেএসএইচ
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট। বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী থেকে জেলা শহর, মহল্লা থেকে বাড়ির ছাদ পর্যন্ত। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এক পর্যায়ে রূপ নেয় রাষ্ট্রীয়...
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় নিহতদের স্মরণে বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘শহীদি মার্চ’ কর্মসূচি পালন করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। 
সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতে বলেছেন, তিনি ও সালমান এফ রহমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন। 
কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে ১৬ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ঘটনায় মৃত্যু, সহিংসতা, নাশকতা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা তদন্তে হাই কোর্ট বিভাগের তিন...
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ গণমাধ্যম। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণমাধ্যমের সব থেকে বেশি ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিডিয়া যদি...
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা শেষে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতেই পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য...
নিজ নির্বাচনী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রকাশ্যে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও মহড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দেশব্যাপী তোলপাড় ও সমালোচনার মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক...
সৌদি আরবে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ায় কূটনৈতিক তথ্য আদান-প্রদানে মারাত্মক ঘাটতি থাকার কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর