কুমারীর মাঝে দেবী দুর্গার আবির্ভাব, মাতৃরূপে কুমারীকে করা হয় আরাধনা। পাঁচ উপকরণে দেয়া হয় কুমারী মায়ের পূজা। মহা অষ্টমীর মূল আকর্ষণ কুমারী পূজার আয়োজন ছিলো রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনে। এবারের কুমারী নীলফামারীর সাড়ে ছয় বছর বয়সি লাবণ্য চট্টোপাধ্যায়। শাস্ত্র মতে, কুমারী দেবীর নাম রাখা হয়েছে ‘মালিনী’। মহাষ্টমীতে কুমারী পূজা ছাড়াও রাতে হয় সন্ধি পূজা।
মঙ্গলবার সকাল, রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশন। পদ্মহাতে যেনো স্বয়ং মহামায়া বসে আছেন। দেবী দুর্গার প্রতিরূপে কুমারী দেবী। পায়ে আলতা, কপালে সিঁদুর আর তিলক পরে সামনে আসলেন মালিনী। সাড়ে ছয় বছরের লাবণ্য চ্যাটার্জির দুই হাতে দুইটি পদ্ম, চরণে রক্তজবা আর অপরাজিতা।
অসুরবিনাশী শুদ্ধসত্তার আবির্ভাব। উলুধ্বনি দিয়ে চণ্ডীপাঠ করে কুমারীকে দেবীর আসনে বসিয়ে অগ্নি, জল, বস্ত্র, পুষ্প এবং বাতাস এই পাঁচ উপকরণে দেওয়া হবে পূজা। নারী ভক্তরা বলেন, দেবীকে কুমারী পূজার মধ্যে দিয়ে যে সম্মান আর শ্রদ্ধা দেয়া হয়, তার প্রতিফলন যেনো হয় সমাজ, রাষ্ট্রের প্রতিটা ক্ষেত্রে।
বেলা ১১টায় রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজা শুরু হয়। ‘কুমারী মায়িকি জয়, দুর্গা মায়িকি জয়’ ধ্বনিতে কুমারী দেবীকে মণ্ডপে আনা হয়। এ সময় দুর্গা প্রতিমার সামনে কুমারী দেবীর বেদি স্থাপন করা হয়। পূজা শুরুতে মন্ত্রপাঠ ও প্রার্থনা হয়। পরে পঞ্চ উপকরণে কুমারী দেবীকে আরাধনা করেন পুরোহিত ও ভক্তরা। ভক্তদের স্বাগত জানাতে সকাল থেকে প্রস্তুত ছিল মন্দির প্রাঙ্গণও।
মন্দির কর্তৃপক্ষ, স্বেচ্ছাসেবী আর পুরোহিতেরা শৃঙ্খলা রক্ষা ও পূজার আচারে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। নির্ধারিত সময় বেলা ১১টায় পূজা শুরু হয়। পূজার ফাঁকে ঢাক-ঢোল, শঙ্খ, কাঁসর ও ঘণ্টা ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে মণ্ডপ। ভক্তরা ঘুরে ঘুরে উলুধ্বনি দেন। এরপর প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
কুমারী পূজার সার্থকতা হবে তখন, যখন নারী জাতির সম্মান ও ভূমিকাকে সঠিক স্বীকৃতি দেয়া হবে। রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী পূর্ণাত্মানন্দজী মহারাজ। পূজা শেষে ছোট্ট কুমারী দেবী মালিনী, বর দিলেন ভক্তদের। এর আগে ভোরে অষ্টমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
দেবী পুরাণে কুমারীপূজার উল্লেখ রয়েছে। শাস্ত্র অনুসারে, ১ থেকে ১৬ বছর বয়সের অজাত পুষ্প সুলক্ষণা কুমারীকে পূজার উল্লেখ রয়েছে। ব্রাহ্মণ অবিবাহিত কন্যা কিংবা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কন্যাকেও পূজা করার বিধান রয়েছে। বয়স ভেদে কুমারীর নাম হয় ভিন্ন।
আর শ্রীরামকৃষ্ণের মতে- সব স্ত্রীলোক ভগবতীর এক একটি রূপ। শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর বেশি প্রকাশ। দুর্গাপূজার অষ্টমী বা নবমীতে ৫ থেকে ৭ বছরের একটি কুমারীকে প্রতিমার পাশে বসিয়ে পূজা করা হয়। চণ্ডীতে বলা হয়েছে- দেবী সর্বভূতেষু; মাতৃরূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্য মধ্যে মায়ের রূপ।
মহাষ্টমীতে কলকাতার বেলুড় মঠে কুমারী পূজা