মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যাচ্ছেন দেবী দুর্গা। বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আজ শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
শঙ্খনাদ-উলুধ্বনি, খোল-করতাল-ঢাকের বাদ্যে, দেবী বন্দনার গান আর অশ্রুভেজা ভালোবাসায় ‘দুর্গতিনাশিনী’ দেবীকে সাড়ম্বরে বিদায় জানাচ্ছেন মর্ত্যের বাসিন্দারা।
‘আনন্দময়ীর’ বন্দনায় যে উৎসবের শুরু হয়েছিলো ষষ্ঠীর সকালে, দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনে তার সাঙ্গ হলো বৃহস্পতিবার। পাঁচদিন ভক্তরা মেতে ছিলেন উৎসব আনন্দে।
সনাতন ধর্ম মতে, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বাবার বাড়ি থেকে পুত্র-কন্যা নিয়ে দুর্গা ফিরে যাবেন কৈলাসে তার স্বামীর ঘরে। এক বছর পর নতুন শরতে আবার তিনি আসবেন এই ধরণিতে।

সকালে সিঁদুর খেলা শেষে বিকেলে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের শোভাযাত্রা।
সিঁদুর খেলার আক্ষরিক অর্থ হলো সিঁদুর নিয়ে খেলা। বাঙালি হিন্দু মহিলারা বিজয় দশমীর দিন, দুর্গাকে বিদায় জানানোর আগে সিঁদুর খেলেন।
এই প্রথাটি একটি নির্দিষ্ট সময় ও নিয়ম মেনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয় এর মধ্যে দিয়ে সৌভাগ্য ও স্বামীদের দীর্ঘায়ু বয়ে আনা হবে।
রীতি মেনে দেবী দুর্গাকে সিঁদুর ছুঁইয়ে সে সিঁদুর নিজে ও অন্যকে মেখে উৎসব করেন সনাতন ধর্মের সধবা নারীরা। সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে পৃথিবী জরামুক্ত করার প্রার্থনাই ছিল সকালে।
দুর্গাপূজার সিঁদুর খেলার ইতিহাস প্রায় ৪৫০ বছরের পুরনো। বাঙালি হিন্দুদের বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলার সঙ্গে সঙ্গে ধুনুচি নাচেরও প্রথা রয়েছে।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, ধুনুচি নাচের মাধ্যমে দুর্গাকে তুষ্ট করা হয়। এতে দেবী মহিষমর্দিনী প্রসন্ন হন। সিঁদুরকে বিবাহিত মহিলাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করা হয়।
ভক্তরা বলেন, দেবী দুর্গা আগামী বছর আবার সঙ্গে করে শাঁখা-সিঁদুর নিয়ে আসবেন এবং সেই শাঁখা-সিঁদুর ধারণ করেই স্বামীর মঙ্গল হবে এই বিশ্বাসে তারা সিঁদুর খেলায় মেতে উঠেন।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্যানুযায়ী, বিসর্জনের উদ্দেশে ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে কেন্দ্রীয় বিজয়া শোভাযাত্রা বের হয় বিকাল ৪টায়। তার আগে ঢাকার পূজামণ্ডপের অধিকাংশ প্রতিমা এসে জমা হয় পলাশী মোড়ে।
এ বছর ঢাকায় ২৫৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণে মণ্ডপের সংখ্যা ছিলো ১৬৯টি। শোভাযাত্রায় মূলত ঢাকা দক্ষিণের মণ্ডপের প্রতিমাই অংশ নেন। শত প্রতিমা আর হাজারো ভক্তের অংশগ্রহণে ঢাকের বাজনায় উৎসবের আমেজ পুরো শোভাযাত্রা জুড়ে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সোয়ারিঘাটে শেষ হবে শোভাযাত্রা। এরপর বুড়িগঙগায় বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে শারদীয় দুর্গোৎসবের।
রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি সারাদেশেও প্রায় একই সময়ে শুরু হবে বিসর্জন। এ বছর সারাদেশে মোট মন্দির-মণ্ডপের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৩৫৫টি, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় এক হাজার মণ্ডপের বেশি।
সনাতন বিশ্বাস ও পঞ্জিকামতে, এবার জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা গজে (হাতি) চড়ে স্বর্গালোক থেকে মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) আসেন (আগমন); যার ফল হিসেবে বসুন্ধরা শস্যপূর্ণা হয়ে উঠবে। দেবী স্বর্গালোকে বিদায় (গমন) নেবেন দোলায় (পালকি) চড়ে; যার ফল হচ্ছে মড়ক। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগ ও মহামারির প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাবে।
বিজয়া দশমী আজ, দেবী দুর্গা ফিরবেন কৈলাসে