জাতীয় সংসদে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী ৩১ মার্চ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতার আনা একটি মুলতবি প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে আজ সংসদে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান কার্যপ্রণালি বিধির ৬২ ধারায় এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে একই সঙ্গে হওয়া গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ এই আদেশের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। ফলে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আইনগতভাবে সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ-উভয় হিসেবেই শপথ নিতে বাধ্য। তিনি এই আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের বিষয়ে আলোচনার জন্য সংসদের কার্যক্রম স্থগিত রাখার আহ্বান জানান।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান প্রস্তাবটিকে ‘যৌক্তিক ও সময়োপযোগী’ অভিহিত করে বলেন, আমরা এই বিষয়ে উভয় পক্ষের আলোচনা চাই। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন হোক, এটিই আমাদের কাম্য।
তার অনুরোধে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ৩১ মার্চ কার্যতালিকার শেষ বিষয় হিসেবে দুই ঘণ্টার আলোচনার সময় নির্ধারণ করেন।
তবে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সংসদীয় বিধি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি যুক্তি দেন যে, সংবিধান সংস্কার একটি আইন প্রণয়নের বিষয় হওয়ায় এটি ৬২ ধারার মুলতবি প্রস্তাবের আওতায় পড়ে না। তিনি প্রস্তাবের বিরোধিতা না করে বরং ৬৮ ধারার আওতায় বৈধ নোটিশের মাধ্যমে আলোচনার পরামর্শ দেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও প্রস্তাব করেন, সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি ‘সংবিধান সংস্কার কমিটি’ গঠন করা হোক, যারা বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজের মতামত নিয়ে প্রতিবেদন জমা দেবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, জুলাই সনদ একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হলেও সংবিধানের যেকোনো পরিবর্তন বিল পাসের মাধ্যমেই হতে হবে। তিনি জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এমন একটি সংশোধন চান যা জুলাই আন্দোলনের চেতনা ধারণ করবে।
১৩৩ অধ্যাদেশের কোনোটিই একেবারে বাতিল হচ্ছে না: আইনমন্ত্রী