ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সোমবার এক অদ্ভুত মেলবন্ধন ঘটল জনগুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আর ব্যক্তিগত রসিকতার। হাওরাঞ্চলে বজ্রপাতে প্রাণহানি ঠেকাতে যখন সংসদ সদস্যরা বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধানের দাবি তুলছিলেন, ঠিক তখনই সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় বিয়ে করা নিয়ে রসিকতা করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। স্পিকারের এই রসিকতা বেশ উপভোগ করেন সংসদ সদস্যরা।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল সংসদে এক জরুরি নোটিস উত্থাপন করে জানান, তাঁর নির্বাচনী এলাকার চারটি উপজেলাই হাওরবেষ্টিত। সেখানে কৃষক ও মৎস্যজীবীরা সারাবছর খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন। গ্রীষ্ম ও বর্ষায় বজ্রপাত সেখানে যমের মতো হানা দেয়।
নাসার তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি জানান, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৫টিরও বেশি বজ্রপাত হয়। বিগত সরকার বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করলেও তালগাছ রোপণ বা বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপনের মতো কার্যকর কোনো পদক্ষেপই দৃশ্যমান নয়। বিশেষ করে সম্প্রতি একদিনে দেশে ১২ জনের মৃত্যুর মধ্যে ৪ জনই তাঁর এলাকার।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু যখন বজ্রপাত মোকাবিলায় সরকারের সচেতনতামূলক পরিকল্পনা ও সাইরেন বসানোর ব্যবস্থার কথা বলছিলেন, তখন স্পিকারের একটি হাস্যরত সবার নজর কাড়ে। মন্ত্রীর বক্তব্য শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অনেকটা কৌতুকচ্ছলেই বলে ওঠেন, ‘এত বজ্র সুনামগঞ্জে, এত বজ্রপাত হয় জানলেতো বিয়েই করতাম না ওখানে’। স্পিকারের ব্যক্তিগত জীবনের এই সংযোগ আর রসবোধে অধিবেশনে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে যায়।
চনার এক পর্যায়ে ত্রাণমন্ত্রী জানান, বজ্রপাতে কৃষক গবাদি পশু হারালে এখন থেকে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সংসদ সদস্য কামরুল মন্ত্রীর ‘সাইরেন’ তত্ত্বকে নাকচ করে দেন। তিনি যুক্তি দেখান, ১০-১৫ কিলোমিটার বিস্তৃত বিশাল হাওরে শুধু সাইরেন বাজিয়ে মানুষকে সতর্ক করা সম্ভব নয়। তিনি দাবি তোলেন, হাওরের মাঝখানে নির্দিষ্ট দূরত্বে ছোট ছোট আশ্রয়কেন্দ্র এবং আধুনিক ‘লাইটেনিং অ্যারেস্টার’ বা বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন করতে হবে।
সংসদ অধিবেশনের এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক মোড় নেয়। ত্রাণমন্ত্রী কামরুলের প্রস্তাবকে ‘যুক্তিযুক্ত ও ভালো প্রস্তাব’ হিসেবে গ্রহণ করেন। তবে, আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে বজ্রপাতের ভয়াবহতার পাশাপাশি স্পিকারের সেই ‘বিয়ে সংক্রান্ত’ সরস মন্তব্যটিই স্যোশাল মিডিয়া ও সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। জীবন-মৃত্যুর মতো কঠিন বিষয়ের আলোচনায় স্পিকারের এমন চটপটে রসিকতা সংসদীয় ইতিহাসে এক বিরল ও মজার মুহূর্ত হয়ে থাকল।
সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে তিন কৃষকের মৃত্যু, আহত তিন
‘বায়বীয় টিকেট’ বিক্রেতারা উন্নয়নে বাধা ও বিশৃঙ্খলার চেষ্টায়: প্রধানমন্ত্রী