উৎসবমুখর ও কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বহুল কাঙ্খিত উপনির্বাচন। নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোটগ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আসনটির ১৮৫টি কেন্দ্রের প্রতিটিতে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ যাবতীয় নির্বাচনি সরঞ্জাম নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিসার কামরুল ইসলামের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। এর আগে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের হাতে এসব নির্বাচনি সরঞ্জাম বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এই আসনের ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভূল্লী উপজেলায় ৩৯টিসহ মোট ১৮৫টি কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

উপনির্বাচন ঘিরে জেলাজুড়ে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের প্রায় ৫ হাজার ৩০০ জন সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ২ হাজার ২৭২ জন পুলিশ সদস্য, ২১ প্লাটুন বিজিবি, ২ হাজার ৪০৫ জন আনসার সদস্য, ৩ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। পাশাপাশি ৯০টি মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স, ২৫ জন নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব পর্যবেক্ষক, ৪ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং ১৭৭ জন দেশি ও স্থানীয় পর্যবেক্ষক নির্বাচনি মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, সাধারণ জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় এ নির্বাচনে কয়েক গুণ বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এই উপনির্বাচনে মোট ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩ জন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট পাঁচজন প্রার্থী। তাঁরা হলেন- বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও ১১ দলীয় জোটের সমর্থিত মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আব্দুল আলিম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মোহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগও কম নেই। বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক ও প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো এবং স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন এই অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়ে জানান, ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং জনরোষ এড়াতে প্রতিপক্ষরা নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।
যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভোটাররা যাতে বিন্দুমাত্র ভয়ভীতি ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের পছন্দমতো সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, সে ব্যাপারে সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এখন কেবল ভোটারদের কেন্দ্রে আসার অপেক্ষা।
