বাংলাদেশের শুঁটকি অর্থনীতির কেন্দ্র সুন্দরবনের দুবলার চর। বঙ্গোপসাগরের পাড়ে গড়ে ওঠা এ পল্লীতে শীত মৌসুমে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হয়।
গেলো মৌসুমে এখানে উৎপাদিত শুটকি থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে তিন কোটি ২২ লাখ টাকা।
দুবলার চরের শুঁটকি পল্লীতে জলদস্যুদের চাঁদাবাজি বন্ধ হওয়ায়, নিরাপদ পরিবেশে শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ শেষে বাজারজাত করছেন তারা।
মনোরঞ্জন বিশ্বাস। জীবনের ত্রিশটি বছর সুন্দরবনের দুবলার চরের শুটকি পল্লীতে কাটিয়েছেন তিনি। বছরের পাঁচ মাস বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ সংগ্রহ করে শুটকির প্রক্রিয়াজাত করেন।
এ বছর ২০ লাখ টাকার শুটকি মাছ সংগ্রহের টার্গেট নিয়েছিলেন মনোরঞ্জন। জানালেন, সেই লক্ষ্যমাত্রা এরিমধ্যে ছুঁয়ে ফেলেছেন তিনি।
তার মতো অনেকেই দুবলার চরে, বনবিভাগ থেকে ঘর ভাড়া নিয়ে শুটকি ব্যবসা করছেন। দুবলার চরের শুটকি পল্লীতে প্রায় পাঁচ হাজার ঘর রয়েছে।
প্রতিটি ঘরের সামনে লইট্যা, চিংড়ি, পোয়াসহ নানা প্রজাতির মাছ শুকাতে ব্যাস্ত শ্রমিকরা। এই মৌসুমে পারিশ্রমিক হিসেবে তারা পাবেন পঞ্চাশ থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত।
রাসায়নিকমুক্ত এই শুঁটকি দেশ থেকে ছড়িয়ে পড়ে বিদেশের মাটিতেও। তিন বছর আগেও জলদস্যুদের কাছ থেকে টোকেন নিয়ে শুঁটকি পল্লীতে বসতে হতো তাদের।
আরও পড়ুন: দুবলার চরে সুপেয় পানি ও চিকিৎসা সংকটে জেলেরা
মাসে নির্ধারিত হারে টাকা না দিলে শুঁটকি ব্যবসায়ীদের ধরে নিয়ে মুক্তিপণ আদায় করতো জলদস্যুরা। চালাতো নিষ্ঠুর নির্যাতন। জলদস্যুদের কারণে রাজস্ব ঘাটতি ছিলো সরকারেরও। কিন্তু এ বছর বন বিভাগের টার্গেট রয়েছে তিন কোটি ২২ লাখ টাকার রাজস্ব আদায়ের।
বনবিভাগের পাশাপাশি শুটকি পল্লীর ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছেন আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা।
চরের শুঁটকি ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও জেলেদের নিত্যদিনের বাজার, বিনোদন আর অবসর সময় কাটানোর জন্য দুবলার চরে গড়ে উঠেছে নিউমার্কেট। এই মৌসুমে সেই নিউমার্কেট মুখরিত থাকবে ব্যবসায়ীদের পদচারণায়।
একাত্তর/ এনএ
