করোনার সময়েও তথ্য ও গ্রাহকসেবায় পুরোপুরি প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে ব্যাংকগুলো। মহামারিতেও ৭০ ভাগ গ্রাহকসেবা সশরীরে দিতে ব্যস্ত থেকেছে অর্ধেক জনবল।
বিআইবিএম প্রতিবেদন বলছে, প্রযুক্তিতে দ্রুত খাপ খাওয়াতে গিয়েও সাইবার ঝুঁকিতে আছে বেশিরভাগ ব্যাংক। এতে করে গ্রাহকের মধ্যেও অনাস্থা বাড়বে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের নিকলী শাখা। শাখায় গিয়ে হাতে গোনা কয়েকটি কম্পিউটারের দেখা মিললেও, স্তূপ হয়ে থাকা ফাইল বন্দি ব্যাংকিং কার্যক্রম।
করোনার এই সময়ে গ্রাহকদের সশরীরে এসে নিতে হয় সব ধরনের সেবা। কেবল কৃষি ব্যাংক নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেশিরভাগ ব্যাংক শাখার চিত্র এমনই।
গ্রাম থেকে শহর কেন্দ্রিক ব্যাংকিং সেবাতেও ততটা আসেনি প্রযুক্তির ছোঁয়া। করোনার প্রায় দুই বছরে দেশের ব্যাংক খাত কতটুকু প্রযুক্তিবান্ধব ছিলো তা জানতে এক জরিপ চালায়, আর্থিক খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইবিএম।
এই প্রতিষ্ঠানের জরিপে দেখা যায়, ব্যাংকিং সেবা সংক্রান্ত পণ্য, অনলাইনে গ্রাহক সেবা কিংবা ঋণ ঝামেলা মেটাতে প্রযুক্তির ব্যবহার হয়নি অর্ধেকও।
আরও পড়ুন: লাল ফিতায় আটকে আছে নতুন পাঠ্যক্রমের পাইলটিং
বলা হয়, এখানকার অর্ধেকেরও বেশি ব্যাংক সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রিজার্ভ চুরির ঘটনার পরও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নানাভাবে হ্যাকার দ্বারা আক্রান্ত হয়।
এটিএম মেশিন থেকে শুরু করে সফটওয়্যারের আড়ালেও মুদ্রা পাচারের ঘটনা ঘটেছে। এগুলোর অন্যতম কারণ, নিবিড় মনিটরিং নেই। ফলে, একের পর এক অঘটন ঘটছেই।
সবশেষ আরটিজিএস (রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট) ব্যবস্থা ব্যবহার করে বড় কিছু কোম্পানির টাকা কিছু ব্যক্তির হিসাবে স্থানান্তরের প্রচেষ্টা হয়েছে। এর আগেও হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেছে।
বিআইবিএমের মতে, ব্যাংকগুলোর প্রযুক্তি খাতে তুলনামূলক কম বিনিয়োগ আর যাচাই-বাছাইহীন ভাবে পণ্য ও সেবা উদ্ভাবন সাইবার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
যা মানছেন ব্যাংকের শীর্ষ নিবার্হীরাও। তাদের মতে, অদূর ভবিষ্যতে হুট করে এমন অতিমারির প্রভাব রোধে প্রযুক্তির অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই।
ব্যাংক খাতে দক্ষ জনবলে বছরজুড়ে প্রশিক্ষণ, সফট ওয়্যারসহ আনুষঙ্গিক প্রযুক্তি সংক্রান্ত কেনাকাটায় নজরদারিসহ বেশি কিছু জায়গায় মনোযোগ দেবার কথাও বলছেন তারা।
একাত্তর/এসজে
