নদী রক্ষায় সীমানা পিলার বসানো হলেও, খালের অবৈধ দখল ঠেকাতে কোনো উদ্যোগ নেই। খাল বাঁচাতে সীমানা চিহ্নিত করে স্থায়ী পিলার বসানোর দাবি জানিয়েচেন পরিবেশবাদিরা।
আর নগর প্রশাসন বলছে, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই খালের পাড়ে নির্মাণ করা হবে স্থায়ী বেষ্টনি।
এক সময় ঢাকায় সচল ছিল ছোট বড় মোট ৪৭টি খাল। রাজধানীকে ঘিরে থাকা চার নদী বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ আর বালু’র সাথে যুক্ত ছিল খালগুলো।
কিন্তু দখলে-দূষণে বেশির ভাগ খালই অস্তিত্ব হারিয়েছে। যেগুলো টিকে আছে সেগুলো হারিয়েছে স্বাভাবিক গতি প্রবাহ। কোনো কোনোটি গেছে দখলদার পেটে।
এক সময় বেশিরভাগ খালের প্রস্থ ছিলো দেড়শ’ ফুটের বেশি। এগুলো বৃষ্টির পানি ধারণ ও নিষ্কাশনে ব্যবহার হতো। মাত্র চার যুগের ব্যবধানে বিলুপ্ত হয়ে গেছে বেশিরভাগ খাল।
সব মিলে চরম অস্তিস্ব সংকটে ঢাকার খাল। বছর খানেক হলো ২৬টি খালের দায়িত্ব ওয়াসার কাছ থেকে গেছে নগর প্রশাসনের হাতে।
দখল ঠেকাতে মাঝে মাঝে অভিযানও চালাচ্ছে দুই সিটি কর্পোরেশন। কোন কোন জায়গায় খাল উদ্ধারে সফলতাও দেখিয়েছে এই দুই নগর কর্তৃপক্ষ
নদী ও প্রাণ প্রকৃতি নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন ‘নোঙর বাংলাদেশ’ ধারাবাহিকভাবে ঢাকার খাল পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করছে।
নোঙর বাংলাদেশের সভাপতি সুমন শামস জানান, খাল দখলের মূল কারণ কোন সীমানা পিলার না থাকা। এ অবস্থায় নদীরক্ষায় যেমন স্থায়ী পিলার বসানো, তেমনি খালের জন্যেও দরকার।
সম্প্রতি লাউতলা খাল উদ্ধার অভিযানে একই প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন ঢাকা উত্তরের মেয়র। বুধবার শ্যামপুর খাল দেখতে গিয়ে দক্ষিণের মেয়রও জানান একই কথা।
শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, খালগুলোকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও নান্দনিক করার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। সেটি অনুমোদন হলে স্থায়ী সমাধানে যাওয়া যাবে।
তিনি আরো বলেন, দখল ঢাকাবাসীর বড় সমস্যা। দখলদারদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরও কঠোর হবেন তারা। প্রয়োজন হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে তাদের কারাদণ্ড দেয়া হবে।
মেয়র তাপস জানান, খালগুলোর সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখলদার মুক্ত করা এবং সীমানা বেষ্টনি স্থায়ীভাবে স্থাপন করতে পারলে তারা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে যেতে পারবেন।
