নয় দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) বাসায় ফিরেছেন লালন সংগীতের কিংবদন্তী শিল্পী ফরিদা পারভীন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হবার পর শিল্পীর যেসকল শারীরিক জটিলতা দেখা দিয়েছিল, বর্তমানে তা আর নেই। কিডনি জটিলতাও এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।
একারণে চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে বাসায় ফিরে গেছেন।
গত ৭ এপ্রিল করোনা ভাইরাস শনাক্তের পর প্রথমে বাসাতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন ফরিদা পারভীন। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তিন দিনের মাথায় করোনার উপসর্গ কমা শুরু হলেও কিডনি জটিলতা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল শিল্পীর পরিবার। অবশেষে সবকিছুর উন্নতি শেষে আজ বাসায় ফেরার অনুমতি পান ফরিদা পারভীন।
১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোর জেলার সিংড়া থানার শাওল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ফরিদা পারভীন। জন্ম নাটোরে হলেও বড় হয়েছেন কুষ্টিয়ায়। ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে নজরুলসংগীত গাইতে শুরু করেন। পরে ১৯৭৩ সালে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। সাধক মোকসেদ আলী শাহর কাছে ফরিদা পারভীন লালনসংগীতে তালিম নেন।
লালনের গানকে জনপ্রিয় করে তোলার পেছনে বড় অবদান ফরিদা পারভীনের। তাঁকে বলা হয় ‘লালন সম্রাজ্ঞী’। কিংবদন্তিতুল্য এই শিল্পী লালনের গানকে ধারণ করে পার করে দিইয়েছেন ৫০ এর অধিক বছর। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ব্যস্ত সময় পার করছেন ‘অচিন পাখি’ নামের একটি গানের স্কুল নিয়ে।
ফরিদার কণ্ঠে জনপ্রিয় হওয়া আধুনিক ও দেশের গানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘তোমরা ভুলে গেছ মল্লিকা দির নাম’, ‘এই পদ্মা এই মেঘনা’ ইত্যাদি। ১৯৯৩ সালে ‘অন্ধ প্রেম’ চলচ্চিত্রে ‘নিন্দার কাঁটা’ গানটির জন্য শ্রেষ্ঠ সংগীতশিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। ২০০৩ সালে একুশে পদক এবং ২০০৮ সালে ‘এশিয়ার নোবেল’ খ্যাত ফুকুওয়াকা পুরস্কার লাভ করেন ফরিদা পারভীন।
