রাজধানী জুড়ে চলছে পোস্টার দূষণ। রেহাই পাচ্ছে না মেট্রোরেলের পিলারগুলোও। রাজনৈতিক নেতাদের শুভেচ্ছা আর নানা দাবি-দাওয়ার পোস্টারে নোংরা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা।
যদিও এখন পর্যন্ত মেট্রোরেলের স্থাপনায় পোস্টার লাগানোর অপরাধে আটক হয়েছে ১৭ জন। তাই, দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানোর কথা বলছে কর্তৃপক্ষ।
মেট্রোরেল নির্মানের জন্য সড়কে মিরপুরবাসীর ভোগান্তিটা গেলো প্রায় পাঁচ বছরের। শেওড়াপাড়া কাজীপাড়ার অংশটুকু বাদে মিরপুর ১২ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত নতুন সাজে সাজতে চলেছে এই সড়ক। সড়ক দ্বীপে করা হচ্ছে ফুল বাগান। বন্ধ হচ্ছে যত্রতত্র পথচারী পারপাপার।
কিন্তু সড়কের সৌন্দর্য্য ধরে রাখাটাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। মিরপুর ১২ নাম্বারে মেট্রোরেলের নিচে রেস্টুরেন্টের বিজ্ঞাপন টানাতে দেখা গেলো দুজনকে।
বেশিরভাগ পিলারেই ইমরান মোল্লার পোস্টার। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ভাই। আছে বিএনপি নেতাদের পোস্টারও।
মেট্রোরেলের পিলারে সবচে বেশি পোস্টার ফার্মগেট বাংলামোটর আর শাহবাগে। বেশিরভাগ পোস্টারে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের নাম।
আছে ছাত্রলীগ মহানগর বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন আর জাতীয় পার্টির পোস্টারও। একধাপ এগিয়ে বাম দলের দেয়াল লিখন। এসবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি নগরবাসীর।

মেট্রোরেলের পিলারে পোস্টার লাগানোর দৃশ্য দেখে খুবই কষ্ট পেয়েছেন প্রবীণ অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
কিছু দিন আগে ফেসবুকে এনিয়ে তিনি লেখেন, কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ করে মেট্রোরেল নির্মাণ করতে পারি, অথচ পিলারগুলোকে পোস্টারমুক্ত রাখতে উদ্যোগ নিতে পারি না।
যারা একটা নতুন পরিষ্কার পিলার বা দেয়ালে প্রথম পোস্টারটি অবৈধভাবে সেঁটে দেন, তাঁদের ন্যূনতম নাগরিক দায়িত্ববোধ ও রুচিশীলতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই অর্থনীতিবিদ।
আরও পড়ুন: স্বপ্ন সুপার শপে এক ইলিশেই লাভ ১৩শ’ টাকা
এমন যখন পরিস্থিতি, তখন মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ বলছে, পোস্টার লাগানোর অপরাধে এ পর্যন্ত ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। শিগগিরই শুরু হচ্ছে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান।
মেট্রোরেল পোস্টার সরাতে কাজ শুরু করেছে সিটি কর্পোরেশনও, তারাও নামবে অভিযানে।
একাত্তর/আরবিএস
