অযত্ন, অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রাজধানীর ফ্লাইওভারের নিচের জায়গা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এসব জায়গায় গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা।
ফ্লাইওভারের নিচে সড়ক বিভাজনে সবুজায়নের কথা বলা হলেও সেটা হয়নি। উধাও হয়ে গেছে সীমানা প্রাচীরও। উল্টো নিচের জায়গাগুলো দখলে নিয়ে চলছে নানা ধরনের কারবার।
নগরীর মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার। দেশের সবচেয়ে বড় ফ্লাইওভার। যাত্রাবাড়ী থেকে চাঁনখারপুল পর্যন্ত চার লেইনের ফ্লাইওভারটির দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ১১ কিলোমিটার।
কিন্তু, ফ্লাইওভারের নীচের সড়কেই যতো বিপত্তি। পিলারের মাঝামাঝি দুপাশে দেয়াল তুলে মিডিয়ান বানানো হয়েছে।
যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা থেকে যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল, সায়েদাবাদ জনপথ মোড় থেকে টিকাটুলী মোড় পর্যন্ত দুই স্তরের মিডিয়ান রয়েছে। সড়কের মোটামুটি অর্ধেকটাই মিডিয়ানের দখলে।
ফ্লাইওভারের নিচের মিডিয়ানগুলো সাড়ে তিন মিটার থেকে ছয় মিটার পর্যন্ত চওড়া। কথা ছিলো এসব জায়গায় গাছ লাগানো হবে। দারুণভাবে সাজানো হবে।
কিন্তু, ২০১৩ সালে চালু হবার পর থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থাতেই পড়ে আছে মিডিয়ানের জায়গা। গড়ে উঠছে নানা অবৈধ স্থাপনা। চলছে নানা ধরনের কারবারও।
মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের নীচের মিডিয়ানও বিভিন্ন জায়গায় অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। কোথাও কোথাও এসব মিডিয়ানে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা, দোকান-পাট।
বনানী ফ্লাইওভারের নীচের মিডিয়ান দারুণভাবে সাজানো-গোছানো। লাগানো হয়েছে শোভাবর্ধক নানা গাছ। নিচ দিয়ে যারাই চলাচল করেন তাদের একবার হলেও নজর কাড়ে সবুজ সজ্জা।
একটু যত্ন পেলে ফ্লাইওভারের নীচের জায়গা যে কতোটা সুন্দর হতে পারে, তার যেন বড় উদাহরণ হয়ে আছে বনানী ফ্লাইওভারের নিচের জায়গাটুকু।
মহাখালী ফ্লাইওভারের অবস্থাও একই রকম। মিডিয়ান সাজানো-গোছানো। পিলারে রয়েছে নানা প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল বিজ্ঞাপন বোর্ডও। তা চলতি পথে একটি হলেও নজর কাড়ে।
নগরবিদ আদিল মুহাম্মদ খা বলেন, রক্ষণাবেক্ষণে উদাসীনতার কারণেই কিছু কিছু ফ্লাইওভারের নীচের মূল্যবান জায়গা পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণের মেয়র জানিয়েছেন, ফ্লাইওভারের নীচের সড়ক ও মিডিয়ান কেমন করে আরও নান্দনিক ও ব্যবহার উপযোগী করা যায় তা নিয়ে কাজ করছে নগর প্রশাসন।
একাত্তর/এআর
