জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানের হাতে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২১’ তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার (২০ মে) গণভবন থেকে তিনি এ পুরস্কার দেন।
পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ফিরিয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, চল্লিশ বছরের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অন্তত এইটুকু করতে পেরেছি যে, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ। বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। আমাদের ৫০ বছর পূর্তিতে আমরা স্বীকৃতিটা পেলাম। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী আমরা যখন উদযাপন করছি তখন এই স্বীকৃতিটা পেলাম। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যে স্বীকৃতি আমরা পেয়েছি, সেটুকু ধরে রেখে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।
তিনি বলেন, সেদিন জাতির পিতার ডাকে যারা যুদ্ধ করেছিলেন, তারা যদি সেদিন সে সাহসটা না দেখাতেন, তাহলে কি আমরা স্বাধীনতা পেতাম? যদিও পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে ব্যর্থ করে দিতে বহুবার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। জাতির পিতার নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল এমনকি মুক্তিযুদ্ধের গানগুলো থেকে, যেখানে বঙ্গবন্ধুর নাম আছে অথবা আমাদের স্বাধীনতার কথা বলা আছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জানি না একটা স্বাধীন জাতি বা স্বাধীন দেশের নাগরিক, যারা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে তারা কিভাবে আবার পরাজিত শক্তির পদলেহন করতে পারে। এটা আমি ভাবতেও পারি না। কিন্তু সেই অবস্থায়ই বাংলাদেশকে কিন্তু নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে আজ এটুকু বলতে পারি, যেটা আমাদের সব সময় একটা প্রচেষ্টা ছিল। আমরা স্বাধীন জাতি, আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি। কাজেই আমরা সবসময় বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলবো, কারো কাছে হাত পেতে না, করুণা ভিক্ষা করে না।
এবার স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখার জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন দেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক মরহুম একে এম বজলুর রহমান, আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খুরশিদ উদ্দিন আহমেদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ড. মৃন্ময় গুহ নিয়োগী, সাহিত্যে কবি মহাদেব সাহা, সংস্কৃতিতে আতাউর রহমান ও সুরকার-গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সমাজসেবায় অধ্যাপক ডা. এম আমজাদ হোসেন, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল।
এর আগে গত ৭ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করে।
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা পুরস্কার দিচ্ছে সরকার।
একাত্তর/এআর
