গেলো ৫০ বছর ধরে রাজধানীতে চুরি করছে একটি চক্র। এই
চক্রের সর্দার জব্বার মোল্লাহ। বর্তমানে বয়স ৬৭ বছর। সব সময়ের পোশাক সাদা
পাঞ্জাবি-লুঙ্গি আর মাথায় টুপি। আর এই বেশই তার প্রধান হাতিয়ার। চোর হিসবে জব্বারকে
কেউ কল্পনাও করতে পারে না।
কারওয়ান বাজার, মিরপুর আর সংসদ ভবন এলাকায় টোকাই হিসেবে ছোটখাটো চুরি দিয়ে শুরু। এরপর জব্বার তার দীর্ঘ চুরির ক্যারিয়ারে একে একে সঙ্গী জুটিয়ে সর্দার হয়ে বসেন। গত ২২ বছর ধরে তার দল ঢাকার দুইশ’র বেশি বাসা-বাড়িতে স্বর্ণালংকার ও টাকা চুরি করেছে।
তবে শেষ রক্ষা আর হলো না। এই চোর চক্রের ছ’জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশে গোয়েন্দা গুলাশান বিভাগ। রাজধানীর খিলক্ষেত থানার একটি বাসা থেকে স্বর্ণ, রূপা ও নগদ টাকা চুরির ঘটনায় জড়িত থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার রাজধানীর তাঁতীবাজার, পল্লবী থানা, ও গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন- জব্বার মোল্লাহ, জামাল সিকদার, আবুল, আজিমুদ্দিন,আনোয়ার হোসেন ও আব্দুল ওহাব। এ সময় তাদের হেফাজত হতে প্রায় ৯ ভরি স্বর্ণ, ৮২ ভরি রূপা ও নগদ প্রায় ১৭ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসে চোর চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানান ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
তিনি বলেন, চোর চক্রের সর্দার জব্বারসহ বেশিরভাগ সদস্য দাড়ি টুপি-পাঞ্জাবি পরা থাকায় কোন অপরিচিত ভবনে উঠলেও প্রাথমিকভাবে কেউ তাদেরকে সন্দেহ করতো না। কেউ জিজ্ঞাসাবাদ করলে কৌশলে তারা সেই প্রশ্নের উত্তর দিতো।
এই চোর চক্র বিভিন্ন জেলা থেকে এসে তারা একত্রিত হয়। একটি এলাকা থেকে হাঁটা শুরু করে এবং সুবিধামত ভবন টার্গেট করে। টার্গেটকৃত ভবনের বিভিন্ন ফ্লোরে ঘুরে যে বাসার প্রধান দরজা লক করা থাকে, সেই বাসার দরজা ভেঙে চুরি করে।
৮-১০ বছর বয়স থেকে তারা ঢাকার কারওয়ান বাজার, মিরপুরসহ সংসদ ভবনের আশেপাশের এলাকায় টোকাইগিরি করতও। এ সময় তারা বাসা বাড়ির ছাদে রোদে দেয়া জামাকাপড়, জুতা, রড ইত্যাদি চুরি করে বিক্রি করতো। চোরাই মাল বিক্রি করতে গিয়ে একে অন্যের সঙ্গে পরিচিত হয়। পরে তারা একত্রে চুরি করা শুরু করে। গড়ে তোলে চোর চক্র।
২০-২৫ বছর ধরে ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় দরজা ভেঙে চুরি। এভাবে ৫০ বছর ধরে ৫০০ এর বেশি চুরি করেছে চক্রটি। ওই চোর চক্র শুধুমাত্র মূল্যবান অলংকার ও বিদেশি কারেন্সি, টাকা ইত্যাদি চুরি করে।
হারুন অর রশীদ বলেন, আগস্ট মাসের ১৭ তারিখে খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জ-২ এর ১৫ নম্বর রোডের ডাক্তার দম্পতির বাসায় দরজা ভেঙে চোরেরা ৪২ ভরি স্বর্ণ ও ইউএস ডলার চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন।
সেই মামলায় তাঁতীবাজার, পল্লবী থানা,ও গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চোর চক্রের সর্দার ও স্বর্ণের দোকান মালিকসহ মোট ছ’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের সকল সহযোগীদের আইনের আওতায় আনা হবে। গ্রেফতারদের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান গোয়েন্দা এই পুলিশ কর্মকর্তা।
একাত্তর/আরবিএস
