সানেমের গবেষণা জরিপ

দেশের ৭৪ শতাংশ নিম্ন আয়ের পরিবার ঋণ করে খাচ্ছে

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৩, ০৮:১৪ পিএম

জীবনযাত্রার চড়া খরচে দেশের ৭৪ শতাংশ নিম্ন আয়ের পরিবার ঋণ করে খাবার খাচ্ছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং-সানেম। কেবল তাই নয়, গেলো ছয়মাসে এসব পরিবারের আয় না বাড়লেও খরচ বেড়েছে ১৩ শতাংশের বেশি। ফলে তাদের ৯০ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে অর্থনৈতিক চাপে তাদের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন হয়ে গেছে।

বুধবার (২৯ মার্চ) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে দেশের ৮ বিভাগের ১ হাজার ৬০০ পরিবারের ওপর করা এই জরিপের ফলাফল তুলে ধরে সানেম।  জরিপের সময়কাল ছিল গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি—এই ছয় মাস। যেখানে অংশ নেয় নিম্ন আয়ের সকল মানুষ। সানেমের মতে, মূল্যস্ফীতির যে চাপ তার পেছনে বিশ্ববাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি যতোটা না দায়ী তার চেয়ে বেশি নিয়ামক হিসাবে কাজ করেছে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও বাজার অব্যবস্থাপনা।

সানেমের জরিপে দেখা যাচ্ছে, দেশের গ্রাম ও শহরের নিম্ন আয়ের ৯০ শতাংশ পরিবাই অর্থনৈতিক চাপে তাদের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন হয়ে গেছে। মূল্যস্ফীতির চাপে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত ব্যয় বাড়তে থাকায় গত ছয় মাসে যে ৭৪ শতাংশ পরিবার ধার করে চলেছে, তাদের ধার করা বন্ধ হয়েছে বা বন্ধ হবে, এমন পরিস্থিতি এখনো আসেনি। বরং পরিস্থিতি যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে ৮৫ শতাংশ পরিবার মনে করে যে আগামী ৬ মাসে তাদের আরও ধার করতে হবে। জরিপ বলছে, ৩৫ শতাংশ পরিবার তাদের সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে, আর সঞ্চয় বিমুখ হয়েছে ৫৫ শতাংশ পরিবার।

image


পরিরিস্থি সামাল দিতে, গেল ৬ মাসে ৪৫ শতাংশ পরিবার বেছে নিয়েছে ক্ষুদ্র ঋণের প্রতিষ্ঠান। এতে করে নিম্ন আয়ের মানুষ সুদের দুষ্টচত্রের ফাঁদে যা থেকে বেরিয়ে আসা মুস্কিল। এর পাশাপাশি ৩৭ শতাংশ পরিবার আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। সমবায় সমিতি থেকে ধার করছে ২৩ শতাংশ পরিবার। এ ছাড়া ব্যাংক ও মহাজনি ঋণ নিয়েছে যথাক্রমে ১৪ ও ৩ শতাংশ পরিবার।

বেসরকারি এ প্রতিষ্ঠানের মতে, লাগামহীন নিত্য পণ্যের খরচের কারণে খাবারের খরচ মেটাতে মানুষ খাদ্য তালিকা থেকে আমিষ জাতীয় খাবারের পরিমাণ কমিয়েছে। এর মধ্যে ৯৬ শতাংশ পরিবার মাংস খাওয়া কমিয়েছে। যেমন ছয় মাস আগেও যেসব পরিবারে মাসে ৪ বার মুরগি খেতো, এখন তারা ২ বার মুরগি খায়। মাছ খাওয়া কমিয়েছে ৮৮ শতাংশ পরিবার। এ ছাড়া ৭৭ শতাংশ পরিবার ডিম ও ৮১ শতাংশ পরিবার ভোজ্যতেল খাওয়া কমিয়েছে।

খাদ্যবহির্ভূত পণ্য এবং সেবায়ও নিম্ন আয়ের মানুষ ব্যাপকভাবে খরচ কমিয়েছে। বিশেষ করে পোশাক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। জরিপের তথ্য বলছে, শহরের নিম্ন আয়ের পরিবার খাদ্য কিনতে বেশি কাটছাঁট করছে। গ্রামের পরিবারগুলো খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে খরচ কমিয়েছে বেশি।

সানেমের জরিপে উঠে এসেছে, ঘরে খাবার আছে কি-না, তা নিয়ে নিম্ন আয়ের পরিবারে আগের তুলনায় উদ্বেগ বেড়েছে। ফলে খাবারে বৈচিত্র্য কমেছে। খাদ্যতালিকায় থাকছে মাত্র কয়েকটি পদ। ৩৭ শতাংশ পরিবার বলেছে, তাদের এখন মাঝেমধ্যে কোনো এক বেলা খাবার না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় খাবার কম খাচ্ছে বলে মনে করে ৭১ শতাংশ পরিবার।

জরিপকারীদের কাছে ১৮ শতাংশ পরিবারের লোকজন দাবি করেছেন যে এই ৬ মাসে এমন কিছুদিন গেছে, যেদিন তাঁদের পুরো দিনও না খেয়ে থাকতে হয়েছে। খাবারের গুণগত মানেও ছাড় দিতে হচ্ছে এসব মানুষের। যার কারণে আগের থেকে কম দামি মাছ-মাংস খেতে হচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তার ভয় বেশি শহরের নিম্ন আয়ের পরিবারে।

সানেম বলছে, জরিপে অংশ নেওয়া পরিবারের মধ্যে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আছে মাত্র ৪০ শতাংশ নিম্ন আয়ের পরিবার। এর মধ্যে বেশির ভাগ আছে টিসিবির পরিবার কার্ডধারী। সরকারের অন্য সহায়তা তারা পাচ্ছে না। টিসিবির এই কার্ড প্রাপ্তির হার গ্রামের তুলনায় শহরে বেশি।

জরিপে অংশ নেওয়া ৫৬ শতাংশ পরিবার মনে করে, আগামী ছয় মাসে তাদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না। ৪১ শতাংশ পরিবার এটাও বলছে, ভবিষ্যতে তাদের ভিক্ষা বা সাহায্য নিয়ে চলতে হতে পারে। টিকে থাকার জন্য শহর থেকে গ্রামে যেতে চায় বেশির ভাগ মানুষ।

বর্তমানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ মানুষ বলেছেন, সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সানেম আরও বলছে, খাবার জোগাড় করতে জমি বিক্রি করে চলতে হতে পারে বলে মনে করে ১৭ শতাংশ নিম্ন আয়ের পরিবার। অবস্থা সামাল দিতে ভবিষ্যতে ঘরের শিশুদের শ্রমে নিযুক্ত করতে হতে পারে বলে ১৯ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আসায় ২৪ শতাংশ পরিবার মনে করে ব্যয় কমাতে তাদের সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ করতে হতে পারে। মেয়েসন্তানকে দ্রুত বিয়ে দেওয়ার কথাও বলছেন অনেকে। ২৫ শতাংশ পরিবার মনে করে বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে তাদের হাতে এখন আর কোনো সুযোগ অবশিষ্ট নেই। তারা এখন নিরুপায়।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সানেম মনে করে, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টিতে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। দেশে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্য আমদানিতে আরও বেশি কৌশলী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে তারা। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বাজার তদারকিতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রয়োজনে ব্যবসায়ী সংগঠনদের সঙ্গে নিয়ে বাজার তদারকি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে তারা। এ ছাড়া বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম কীভাবে কমিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে বলে জানায় সানেম। 


একাত্তর/এআর

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১,০০০ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী এ প্রোগ্রামের আওতায় নির্বাচিত হবে। তাদের ১০ জন করে ১০০টি দলে ভাগ করা হবে। প্রতিটি দল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণা করবে।
দেশে ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। মঙ্গলবার ৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল ডেঙ্গুতে।বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য...
নাশকতার অভিযোগে ২০১২ সালে মতিঝিল থানায় দায়ের করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ৯৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। এর মধ্যদিয়ে এ মামলার...
কেবল এডিস মশাই নয় চরিত্র বদলাচ্ছে ডেঙ্গু ভাইরাসও। ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গও পাল্টে যাচ্ছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা। সঠিক চিকিৎসা বা ভ্যাকসিন তৈরির জন্য এই মুহূর্তে দেশে কোন ধরনের ডেঙ্গুর প্রকোপ...
রূপকথার মতো ক্যারিয়ারে হাজার হাজার ছবি আর ভিডিও আপলোড করেছেন লিওনেল মেসি, কিন্তু বিশ্বকাপের ফাইনালের ঠিক আগের দিন তাঁর ইনস্টাগ্রামের সর্বশেষ পোস্টটি যেন একদম অন্যরকম এক আবেগের সুনামি বইয়ে দিয়েছে!...
১০ বছর আগে যে মাঠ সাক্ষী ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার ও হৃদয়বিদারক রাতের, ফুটবল ঈশ্বর যেন ঠিক সেই মঞ্চেই ফিরিয়ে আনলেন তাকে! যে কান্নায় একদিন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল পুরো ফুটবল বিশ্ব, আজ এক দশক পর ঠিক...
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন, আর তা নিয়ে গোটা দুনিয়াজুড়ে উন্মাদনা এখন চরমে! লাতিন বনাম ইউরোপীয় ফুটবলের এই ধ্রুপদী লড়াইয়ের চেয়েও...
স্পেনের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে তীব্র উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে আর্জেন্টিনার ফুটবল ভক্তদের। আর এই স্নায়ুচাপ সামলাতে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের এখন একমাত্র ভরসা, নানা অদ্ভুত আর...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর