বঙ্গবাজারের পুড়ে যাওয়া ধ্বংস স্তূপ তৃতীয় দিনেও সরানো সম্ভব হয়নি। এই সপ্তাহেও সেখানে অস্থায়ীভাবে দোকান চালু করা যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় আছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাদের মাথায় ঋণের বোঝা। তাই দোকান চালু করতে না পারলে লোকসান আরও বাড়বে।
রাজধানীর বঙ্গবাজারে ভয়াবহ আগুনে শুধু বঙ্গবাজার মার্কেটই নয়, এনেক্সকো টাওয়ার, মহানগর শপিং কমপ্লেক্স, আদর্শ মার্কেট, গুলিস্তান মার্কেট, বঙ্গ ইসলামিয়া মার্কেট পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বঙ্গবাজার মার্কেট।
ছয় দিন পরও ধ্বংস স্তুপ সরাতে গেলেই বোঝা যায় কতটা ভয়ংকর ছিলো বঙ্গবাজারের আগুন। পোড়া জিনিসপত্র সরালেই বেরিয়ে আসছে ধোঁয়া। বিশাল এই ধ্বংসস্তুপ সরিয়ে কবে এখানে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড শুরু করা যাবে; সেটি এখনও বলা যাচ্ছে না।
সোমবার ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপ সরাতে কাজ করছেন ১০-১৫ জন শ্রমিক। তারা ধ্বংসস্তূপ থেকে লোহা ও টিন কেটে কেটে বের করে নিয়ে যাচ্ছেন। ভেতর থেকে লোহা ও টিন কেটে উপরে তোলার পর নিচে থেকে আগুন জ্বলে উঠছে।
এই আগুন জ্বলছে ধ্বংসস্তূপের ভেতরে থাকা বিভিন্ন কাপড়ের টুকরায়। এছাড়া সাত-আট জাগায় প্রচণ্ড ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। আগুন ও ধোঁয়ার কারণে শ্রমিকদের বারবার পিছিয়ে আসতে হয়। আগুন নেভানোর পর ধোঁয়া কমে গেলে তারা আবার কাজ শুরু করছেন।
পরে ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করে ট্রাকে করে অন্যত্র নেয়া হচ্ছে। এসব কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, ধোঁয়া ও তাপের কারণে তাদের কাজ করতে ভীষণ সমস্যা হচ্ছে। আগুনের তাপে ঠিক মতো কাজ করতে পারছেন না তারা। সাত আট জায়গায় ধোঁয়া উড়ছে।
আগুনের লেলিহান শিখায় বাতাসে কোটি কোটি টাকার সম্পদ মিলিয়ে যাওয়ার পরও আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন সেখানকার ব্যবসায়ীরা। আগুনে সব হারিয়ে কিছু দোকানি রাস্তার উপরই বেচাকেনা শুরু করেছেন। ঈদ সামনে রেখে তীব্র রোদে চলছে টিকে থাকার লড়াই।
আরও পড়ুন: ঈদে পদ্মা সেতু ছাড়া সব জায়গায় চলবে বাইক
ভালো দিনের স্বপ্ন দেখছেন কেউ কেউ। বঙ্গবাজার মার্কেটের দক্ষিণ পাশে অস্থায়ীভাবে দোকান বসিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। দোকান নিয়ে বসলেও বেচা-কেনা হচ্ছে নামমাত্র। তারপরও শূন্যের মাঝে ব্যবসায়ীরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে, ধ্বংসস্তুপের পাশেই চলছে বঙ্গবাজারের আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ। চার দিনে শুধু বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স মার্কেটের প্রায় তিন হাজার ব্যবসায়ী ও কর্মচারীর তালিকা করে সিটি করপোরেশনে কাছে জমা দেয়া হয়েছে।
একাত্তর/আরবিএস
